যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানির গতি কিছুটা মন্থর হলেও প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের তুলনায় বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। মার্কিন প্রশাসনের আরোপিত পাল্টা শুল্কের প্রভাবে চীনের রপ্তানিতে বড় ধরনের ধস নামায় দেশটিতে দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন ‘অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল’ (ওটিইএক্সএ) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য জানা গেছে। তবে এই বাজারের শীর্ষ রপ্তানিকারক হিসেবে এখনো নিজের আধিপত্য ধরে রেখেছে ভিয়েতনাম।
প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২০৪ কোটি মার্কিন ডলারের। যদিও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই রপ্তানি আয় প্রায় ৮ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিপরীতে একই সময়ে চীনের পোশাক রপ্তানিতে নজিরবিহীন পতন দেখা দিয়েছে।
গত বছরের প্রথম তিন মাসে যেখানে চীনের রপ্তানি ছিল ৩৬১ কোটি ডলার, সেখানে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তা ৫৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৭০ কোটি ডলারে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পাল্টা শুল্ক নীতির কারণে চীন এই বিশাল বাজার হারাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বর্তমানে শীর্ষ অবস্থানে থাকা ভিয়েতনাম চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৩৯৮ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেশি। বর্তমানে মার্কিন পোশাক বাজারের প্রায় ২২ শতাংশ ভিয়েতনামের দখলে থাকলেও বাংলাদেশের দখলে রয়েছে সাড়ে ১১ শতাংশ।
একই সময়ে অন্যান্য প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি সামান্য কমে ১২২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং ভারতের রপ্তানি প্রায় ২৭ শতাংশ কমে ১১০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের এই অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাণিজ্য সংশ্লিষ্টরা।
রপ্তানিকারক ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন পাল্টা শুল্ক নীতির কারণে বৈশ্বিক পোশাক বাণিজ্যে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন বা পুনর্বিন্যাস ঘটছে। চীন থেকে সরে আসা অনেক ক্রয়াদেশ শুরুতে বাংলাদেশ পেলেও বর্তমানে বৈশ্বিক উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে সেই গতি কিছুটা কমেছে।
বিশেষ করে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে পোশাকের সামগ্রিক চাহিদা হ্রাসের প্রভাব বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে পড়েছে। তবে চীনের তুলনায় কম শুল্কহারের সুবিধা পাওয়ায় বাংলাদেশ এখনো প্রতিযোগিতায় টিকে আছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যার প্রভাব বাংলাদেশের ওপরও পড়েছিল। পরবর্তীতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য শুল্ক হার কিছুটা শিথিল করা হলেও বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাণিজ্যে এখনো এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।