তৈরি পোশাক খাতের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে দেশের রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ৩ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল (এক্সপোর্ট ডাইভার্সিফিকেশন রিফাইন্যান্স স্কিম) গঠন করেছে। রফতানিমুখী শিল্পের প্রসারে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স বিভাগ এই তহবিলের বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের রফতানি আয় মূলত পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বাজারে এক ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই ঝুঁকি কমাতে, কর্মসংস্থান বাড়াতে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশের অবস্থান শক্ত করতে রফতানি বহুমুখীকরণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
রফতানি নীতি ২০২৪-২৭ অনুযায়ী ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত’ এবং ‘বিশেষ উন্নয়নমূলক’ খাতের আওতাভুক্ত শিল্পগুলো এই তহবিল থেকে ঋণ পাবে। দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে যারা রফতানিযোগ্য পণ্য তৈরি করেন, তারা এই ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক অংশীদ্বারি ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ সুদে এই অর্থ দেবে। আর সাধারণ উদ্যোক্তারা গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে (রিডিউসিং ব্যালেন্স পদ্ধতিতে) এই ঋণ পাবেন। প্রকল্পে উদ্যোক্তাদের নিজস্ব মূলধন থাকা বাধ্যতামূলক। ঋণ ও মূলধনের অনুপাত হবে ন্যূনতম ৭০:৩০। অর্থাৎ, প্রকল্পের মোট খরচের অন্তত ৩০ শতাংশ উদ্যোক্তাকে নিজের পকেট থেকে দিতে হবে।
এটি একটি মেয়াদি ঋণ সুবিধা, যার মেয়াদ হবে ৩ বছর। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা কিস্তি পরিশোধের সাময়িক ছাড় পাওয়া যাবে। কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতা বা যাদের ঋণ আগে অবলোপন (রাইট-অফ) করা হয়েছে, তারা এই সুবিধা পাবেন না। আবেদনকারীর সিআইবি রিপোর্ট সম্পূর্ণ পরিষ্কার হতে হবে। এছাড়া, যাদের রফতানি বিল বকেয়া বা অপ্রত্যাবাসিত রয়েছে, তারাও এই তহবিলের আওতার বাইরে থাকবেন।
ব্যাংকগুলোকে ঋণ বিতরণের ৯০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পুনঃঅর্থায়নের জন্য আবেদন করতে হবে। নথিপত্র যাচাইয়ের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
ঋণের টাকা প্রতি তিন মাস পর পর (ত্রৈমাসিক কিস্তিতে) পরিশোধ করতে হবে। ব্যাংকগুলো সময়মতো বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা ফেরত দিতে না পারলে মূল সুদের চেয়ে আরও ৫ শতাংশ অতিরিক্ত জরিমানা দিতে হবে। তবে কোনো গ্রাহক চাইলে সময়ের আগে ফি বা চার্জ ছাড়াই পুরো ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন।
এই তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক যেকোনো সময় প্রকল্প পরিদর্শন করতে পারবে। কোনো ব্যাংক মিথ্যা তথ্য দিয়ে সুবিধা নিলে বা ঋণের অর্থ অপব্যবহার হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা বাতিল করতে পারবে এবং ৫ শতাংশ অতিরিক্ত সুদসহ পুরো টাকা ফেরত নিতে পারবে।