প্রথম বিয়ের খবর গোপন রেখে দ্বিতীয়বার বিয়ে করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন নেত্রকোনার মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সাব্বির আহমেদ (২৫)। তিনি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আসাদুজ্জামান আজাদের ছেলে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের একটি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। বিয়ের ঠিক আগমুহূর্তে প্রথম স্ত্রীর পরিবার বিষয়টি ফাঁস করে দিলে বিয়ে ভেঙে যায় এবং বরপক্ষকে আটকে রেখে মোটা অঙ্কের জরিমানা আদায় করা হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে ২০২২ সালে সাব্বির আহমেদ প্রতিবেশী এক তরুণীকে গোপনে বিয়ে করেন এবং বিষয়টি লুকিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে পারিবারিকভাবে কেন্দুয়া উপজেলার এক কৃষক দল নেতার কলেজপড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে ঠিক হয়।
শুক্রবার যথারীতি বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়িতে হাজির হন সাব্বির। খাওয়া-দাওয়া শেষে সন্ধ্যায় যখন বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছিল, ঠিক তখনই সাব্বিরের প্রথম স্ত্রী মুঠোফোনে কনের বাবাকে আগের বিয়ের কথা জানান। খবর পেয়ে প্রথম স্ত্রীর পরিবারের সদস্যরাও সেখানে এসে হাজির হন।
আগের বিয়ের খবর জানাজানি হওয়ার পর কনের পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ে বন্ধ করে দেয়। এ সময় উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা বরসহ তাঁর পক্ষের বেশ কয়েকজনকে আটকে রাখেন। পরবর্তীতে গভীর রাত পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সালিশ-বৈঠক হয়। অবশেষে বিয়ের আয়োজনের ক্ষতিপূরণ বাবদ একটি বড় অঙ্কের টাকা দেওয়ার পর রাত দুইটার দিকে বরপক্ষ মুক্তি পায়। এ বিষয়ে কনের বাবা বিয়ে বন্ধের কথা স্বীকার করলেও জরিমানার ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। অন্যদিকে বরের বাবা আসাদুজ্জামান আজাদ জানান, ছেলের আগের বিয়ের খবর তাঁর জানা ছিল না এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁকে মোটা অঙ্কের জরিমানা দিতে হয়েছে।
এই ঘটনার জের ধরে শনিবার সকালে সাব্বিরের সমর্থকরা তাঁর প্রথম স্ত্রীর বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় প্রথম স্ত্রীর বড় বোন আহত হলে তাঁকে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথম স্ত্রী ‘৯৯৯’ নম্বরে কল করে পুলিশের সাহায্য নেন।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সাব্বিরের ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে মদন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অসীম কুমার দাস জানান, ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মারধরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।