Home » ১৩ মিনিটের জাদুতে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য জয়!

১৩ মিনিটের জাদুতে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য জয়!

পেনাল্টিতে 'ডাব্বা' মেরেও জাদুকর মেসি: ১৩ মিনিটের হার্ট অ্যাটাকে মিসরকে কাঁদিয়ে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য জয়!

কর্তৃক Towkir Hasan
০ মন্তব্য

আটলান্টা স্টেডিয়ামে তখন পিনপতন নীরবতা। ঘড়িরকাঁটা ৭৮ মিনিট ছুঁয়েছে, স্কোরবোর্ডে জ্বলজ্বল করছে—মিসর ২, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ০! গ্যালারিতে থাকা আকাশি-সাদা সমর্থকদের চোখেমুখে তখন অকাল বিদায়ের শঙ্কা। মনে হচ্ছিল, এবারের ফিফা বিশ্বকাপ থেকে চ্যাম্পিয়নদের বিদায়ঘণ্টা বুঝি বেজেই গেল। কিন্তু এরপরের মাত্র ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে মাঠে এমন এক জাদুকরী ভোজবাজি দেখল ফুটবল বিশ্ব, যা হার মানাবে হলিউডের যেকোনো শ্বাসরুদ্ধকর সাসপেন্স থ্রিলারকেও।

ম্যাচের শুরুটা মোটেও চ্যাম্পিয়নদের মতো ছিল না। ১৫ মিনিটেই রক্ষণের মারাত্মক ভুলে ইয়াসের ইব্রাহিমের দারুণ এক হেডে এগিয়ে যায় মিসর। ২০২২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক অঘটনের পর, টানা ১০টি ম্যাচ অপরাজিত থেকে এই প্রথম কোনো ম্যাচে পিছিয়ে পড়েছিল লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। গোল হজমের ঠিক চার মিনিট পরই অবশ্য শোধ তোলার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন স্বয়ং জাদুকর লিওনেল মেসি! বিশ্বকাপে নেওয়া আটটি পেনাল্টির মধ্যে এটি ছিল তাঁর চতুর্থ মিস। অর্থাৎ, পেনাল্টি থেকে গোল করার ক্ষেত্রে তাঁর সাফল্যের হার এখন মাত্র ৫০ শতাংশ। একই সাথে এক আসরে দুটি পেনাল্টি মিস করা প্রথম ফুটবলার হওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডও এদিন নিজের নামের পাশে যুক্ত করেন এই কিংবদন্তি।

১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করা আর্জেন্টিনার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় ম্যাচের ৬৭ মিনিটে। মোহাম্মদ সালাহর বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে জিকোর দুর্দান্ত এক গোলে মিসর যখন ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়, আর্জেন্টিনার বেঞ্চে তখন নেমে আসে শ্মশানের নীরবতা।

তবে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়, তা মেসিদের চেয়ে ভালো আর কে জানে! ৭৯ মিনিটে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে আর্জেন্টিনা। মেসির মাপা ক্রস থেকে দারুণ এক হেডে ব্যবধান কমান ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। ঠিক ৪ মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর, গঞ্জালো মন্তিয়েলের নিখুঁত এক পাসে বল পেয়ে প্রথম টাচেই জালের ঠিকানা খুঁজে নেন খোদ মেসি। স্কোরলাইন হয়ে যায় ২-২! এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের ২১তম গোলটি আদায় করে নেন তিনি, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পের চেয়ে দুই গোল বেশি।

এই মহানাটকের ক্লাইম্যাক্স তখনো বাকি। যোগ করা সময়ে (৯১ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড) লাওতারো মার্তিনেজের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে জয়সূচক গোলটি করেন এনজো ফার্নান্দেজ। পুরো স্টেডিয়াম তখন উল্লাসে ফেটে পড়ে। অবাক করা বিষয় হলো, এটি শুধু আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলই ছিল না, এটি ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের ৩০০০তম গোল! পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৬৫ সালের পর এই প্রথম আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে দুই বা তার বেশি গোলে পিছিয়ে থেকেও এমন অভাবনীয় জয়ের নজির গড়ল।

রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর পেনাল্টি মিসের সব হতাশা আর চাপ যেন ধুয়ে যায় মেসির চোখের আনন্দাশ্রুতে। মাত্র ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন আবারও প্রমাণ করে দিল—চ্যাম্পিয়নরা শুধু ভালো খেলেই জেতে না; খাদের কিনারা থেকে ফিরে এসে কীভাবে প্রতিপক্ষের মুখ থেকে জয় ছিনিয়ে আনতে হয়, সেই শিল্পটাও তাদের খুব ভালো করেই জানা।

আপনার আরও পছন্দ হতে পারে

একটি মন্তব্য করুন