Home » ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বৈঠক নয়: ইরান

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো বৈঠক নয়: ইরান

কর্তৃক rRWFlRCTVIL0
০ মন্তব্য ১৫৯ ভিউস

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সফররত মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসছে না ইরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই। 

আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বর্তমানে ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন এবং তিনি কেবল পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গেই বৈঠক করবেন। ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তাদের পর্যবেক্ষণ বা বক্তব্যগুলো মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে, সরাসরি ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিদের কাছে নয়।

ইরানি মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই আরও উল্লেখ করেছেন যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির এই সফর মূলত ‘যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ বন্ধ এবং এই অঞ্চলে শান্তি পুনরুদ্ধারে’ পাকিস্তানের চলমান মধ্যস্থতা ও প্রচেষ্টার অংশ। ইসলামাবাদ বর্তমানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। 

এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই হোয়াইট হাউসের একটি প্রতিনিধি দল শনিবার পাকিস্তানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে দুই দেশের প্রতিনিধিরা একই সময়ে একই শহরে অবস্থান করলেও সরাসরি কোনো টেবিল বৈঠকে বসার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে তেহরান। তাদের দাবি, আলোচনার আগে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করতে হবে।

এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে বড় ধরনের নীতিগত মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। রাশিয়ার সমর্থনপুষ্ট ইরান যেখানে মার্কিন অবরোধ ও সামরিক চাপের মুখে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অনড়, সেখানে ওয়াশিংটন একটি ‘চৌকস ও লাভজনক’ চুক্তির জন্য চাপ দিচ্ছে। 

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ইরান চাইলে একটি ভালো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, তবে ট্রাম্প প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে না। এই টানাপোড়েনের মাঝেই লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪৯১ জনে, যা পুরো অঞ্চলের উত্তেজনাকে আরও উসকে দিচ্ছে।

কূটনৈতিক এই অচলাবস্থার মধ্যেই ইরান আঞ্চলিক পর্যায়ে তার মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি পাকিস্তান সফর শেষে ওমান ও রাশিয়া সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরে সামরিক মহড়া ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি অব্যাহত রয়েছে। 

হরমুজ প্রণালিতে ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশগুলোর জন্য ফি মওকুফ এবং আইআরজিসি-র পাহারায় ইরানি জাহাজের বন্দরে পৌঁছানোর মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, তেহরান সামরিক ও অর্থনৈতিক উভয় পথেই যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে। ইসলামাবাদের এই সম্ভাব্য মধ্যস্থতা শেষ পর্যন্ত কোনো আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর পর্যবেক্ষণ চলছে।

সূত্র: আল জাজিরা

আপনার আরও পছন্দ হতে পারে

একটি মন্তব্য করুন

আমাদের সম্পর্কে

আপনাকে প্রতিদিন অবহিত রাখতে সময়োপযোগী, নির্ভরযোগ্য এবং নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করা হয়। আমরা আপনার জন্য নিয়ে আসি নির্ভুল সংবাদ, গভীর বিশ্লেষণ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্য।
© ২০২৬ দ্য ডেইলি ইভেন্ট । সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।