ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ তেহরানকে এই চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সংকেত পাওয়া মাত্রই সেনাবাহিনী পুনরায় পুরোদমে হামলা শুরু করবে।
তেল আবিবে ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাৎজের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার পারদকে এক নজিরবিহীন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যা যেকোনো মুহূর্তে একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যে সম্ভাব্য অভিযানের ধরন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কাৎজ জানিয়েছেন, এবারের হামলার প্রধান লক্ষ্য হবে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতাকে চিরতরে গুঁড়িয়ে দেওয়া।
তাঁর ব্যবহৃত শব্দগুলো থেকে সামরিক পর্যবেক্ষকরা ধারণা করছেন, ইসরায়েল এবার এমন কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পরিকল্পনা করছে যার ফলাফল হবে সুদূরপ্রসারী এবং যা পুরো অঞ্চলের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনী যেকোনো ধরনের রক্ষণাত্মক বা আক্রমণাত্মক পরিস্থিতির জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে।
তেল আবিবে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির এবং সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘আমান’-এর প্রধান শ্লোমি বিন্ডারসহ শীর্ষ সামরিক কমান্ডারেরা উপস্থিত ছিলেন। কাৎজ দাবি করেন, প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের সামরিক পথ নিয়ে ইসরায়েলের চূড়ান্ত সমন্বয় চলছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে জড়িয়ে তাঁর মন্তব্যগুলোকে তেহরানের ওপর রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি বিশেষ কৌশল হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও ইসরায়েলের উত্তর ফ্রন্টে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন এ ধরনের কঠোর বার্তা ইরানকে সামরিকভাবে দমানোর একটি প্রয়াস বলে মনে করা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসরায়েলের এই কঠোর অবস্থান মূলত ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা এবং তেহরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে একটি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে একটি স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতির চেষ্টা করছে বলে দাবি করছে, তবে ইসরায়েলের এই ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়ার অপেক্ষা ওয়াশিংটনের দ্বিমুখী নীতি বা পর্দার আড়ালের কোনো সামরিক সমঝোতার দিকে ইঙ্গিত দেয়।
যুদ্ধের এই নতুন ডামাডোল কেবল ইরান ও ইসরায়েল নয়, বরং পুরো বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি বাজারের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন সম্পূর্ণভাবে হোয়াইট হাউসের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর।