চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত নিরসনে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা শুরু হতে পারে—এমন প্রত্যাশা থেকে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। এর প্রভাবে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও মঙ্গলবার সকাল থেকে ইতিবাচক চাঞ্চল্য লক্ষ্য করা গেছে।
মূলত দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দেওয়ার যে শঙ্কা তৈরি করেছিল, আলোচনার নতুন সম্ভাবনা সেই আতঙ্ক কিছুটা হলেও প্রশমিত করছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৪ সেন্ট বা ০.৬ শতাংশ কমে ৯৪.৯৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) মে মাসের সরবরাহ মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১.১১ ডলার বা ১.২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৮৮.৫০ ডলারে নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার দুই দেশের আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারির জেরে তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। একদিনের ব্যবধানে আলোচনার ইতিবাচক গুঞ্জন সেই চড়া দামকে টেনে নিচে নামাতে সক্ষম হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং তেলের ট্যাংকার আটকের মতো ঘটনাগুলো বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে লণ্ডভণ্ড করে দেয়। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে কেবল জ্বালানি তেল নয়, বরং বিশ্বজুড়ে নিত্যপণ্যের দামও বাড়তে শুরু করেছিল। তবে বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশ আলোচনার টেবিলে বসার যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তা জ্বালানি বাজারের জন্য একটি বড় আশার আলো হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বিনিয়োগকারীরা এখন নিবিড়ভাবে দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন। যদি প্রস্তাবিত এই শান্তি আলোচনা ফলপ্রসূ হয় এবং হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথগুলো পুনরায় স্বাভাবিক হয়, তবে তেলের দাম আরও স্থিতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রয়টার্স বলছে, বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি টেকসই সমঝোতা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় তেলের বাজারে এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদী সংকটে ফেলে দিতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স।