নিম্নআয়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য খোলা বাজারে খাদ্যপণ্য বিক্রির (ওএমএস) কার্যক্রমের চাল ও আটার বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা এবং মোট বাজেট ভর্তুকি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছে সরকার। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে উপস্থাপিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ওএমএসের আওতায় ২ লাখ ৪০ হাজার টন চাল এবং ৩ লাখ ৫০ হাজার টন আটা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা বিদায়ী অর্থবছরে ছিল যথাক্রমে ৩ লাখ ৪ হাজার টন চাল ও ৪ লাখ ৪৯ হাজার টন আটা।
একই সঙ্গে ওএমএস কার্যক্রমে সরকারের ভর্তুকি বরাদ্দ ৬৮৫ কোটি টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৪১১ কোটি টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪ হাজার ৯৬ কোটি টাকা। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সামগ্রিক ব্যয় কাঠামোর অভ্যন্তরীণ পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবেই এই সাময়িক সমন্বয় করা হয়েছে। তবে বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে।
বর্তমানে দেশব্যাপী ১,১২৫টি ওএমএস বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা, খোলা আটা ২৪ টাকা এবং ২ কেজির আটার প্যাকেট ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে খোলা বাজারে চাল কেজিপ্রতি দর সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় ওএমএসের বরাদ্দ কমানোর সিদ্ধান্তে প্রান্তিক পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়
হাইলাইটস:
- ওএমএসের আওতায় চলতি অর্থবছরে চাল ও আটার বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমাল সরকার।
- ওএমএস কার্যক্রমে সরকারের মোট খাদ্য ভর্তুকি ৬৮৫ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে ৩,৪১১ কোটি টাকায় নির্ধারিত।
- বাজারে চালের দরবৃদ্ধির মধ্যে নিম্নবিত্তের খাদ্য সহায়তায় সরবরাহ নিশ্চিতের তাগিদ অর্থনীতিবিদদের।