রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপের ভৌগোলিক বাণিজ্য রুটে সৃষ্ট জটিলতা এবং রাশিয়া থেকে সরাসরি বাণিজ্য বিচ্ছিন্নতার প্রেক্ষাপটে মধ্য ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ দেশ পোল্যান্ডে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নজিরবিহীন প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পোল্যান্ড এখন বাংলাদেশি পোশাকের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল রপ্তানি গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। পূর্ব ইউরোপীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও রিটেইল চেইন চীন থেকে ক্রয়াদেশ সরিয়ে বাংলাদেশে স্থানান্তর করায় এই নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার ওপর আরোপিত বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার কারণে যেসব আন্তর্জাতিক রিটেইলার মস্কোর বাজার ত্যাগ করেছে, তারা পার্শ্ববর্তী মধ্য ইউরোপীয় অঞ্চলে তাদের সরবরাহ চেইন পুনর্বিন্যাস করছে। এর ফলে পোল্যান্ডভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় পোশাক বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ থেকে সরাসরি টি-শার্ট, ট্রাউজার, সুয়েটার ও হোম টেক্সটাইল সামগ্রী আমদানি বাড়িয়েছে। বিগত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে পোল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে উল্লেখযোগ্য অঙ্কে পৌঁছেছে।
রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, পোল্যান্ডের মতো নতুন উদীয়মান বাজারে অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে পারলে একক কোনো ঐতিহ্যবাহী বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা হ্রাস পাবে। এছাড়া স্থানীয় ব্যাংকিং চ্যানেলে শুল্ক ও পেমেন্ট ক্লিয়ারিং সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। নতুন বাজারগুলোতে বাংলাদেশের এই শক্ত অবস্থান দেশের সামগ্রিক রপ্তানি বহুমুখীকরণ পরিকল্পনাকে আরও বেগবান করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়
হাইলাইটস:
- ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্য ইউরোপের দেশ পোল্যান্ডে বাংলাদেশি পোশাকের রপ্তানি ব্যাপক বৃদ্ধি।
- চীন ও রাশিয়ার বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে পোল্যান্ডের বাজারে স্থান করে নিচ্ছে বাংলাদেশ।
- প্রচলিত বাজারের বাইরে নতুন গন্তব্যে রপ্তানি বহুমুখীকরণে আশার আলো দেখছেন পোশাকশিল্প মালিকরা।