সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে তথাকথিত অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে ইসলামি শরিয়াহর তাজির আইনের আওতায় দুই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর তাদের প্রকৃত পরিচয়, স্থায়ী ঠিকানা ও জাতীয়তা নিশ্চিত হতে সৌদি সরকারের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ মিশন। গত তিন দিন আগে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা (এসপিএ) এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায় যে, নাজরুল ইসলাম আবদুল বাছির এবং সিতি আক্তার নামের দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে এবং তাদের পরিচয় হিসেবে ‘বাংলাদেশি নাগরিক’ উল্লেখ করা হয়。
জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের দায়িত্বশীল কূটনৈতিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই দুই ব্যক্তির বিচারিক কার্যক্রম, অভিযোগের মাত্রা বা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে কোনো ধরনের আগাম কূটনৈতিক নোটিশ বা তথ্য সরবরাহ করা হয়নি। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পরপরই জেদ্দার বাংলাদেশ মিশনের পক্ষ থেকে রিয়াদের সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি জরুরি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক চিঠি (নোট ভারবাল) প্রেরণ করা হয়েছে। চিঠিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী কি না এবং তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত আইনি শুনানির সুনির্দিষ্ট নথি চাওয়া হয়েছে。
আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও মানবাধিকার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, ১৯৬৩ সালের ভিয়েনা কনভেনশন অন কনস্যুলার রিলেশন্সের অনুচ্ছেদ ৩৬ ও ৩৭-এ স্পষ্টভাবে বলা রয়েছে যে, কোনো বিদেশি নাগরিককে ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার করা হলে বা তার মৃত্যুদণ্ড হলে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসকে অবিলম্বে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করতে হবে। এছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজ দেশের কনস্যুলার প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলার এবং স্বাধীন আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা উভয় দেশের স্বাক্ষরকৃত চুক্তি অনুযায়ী মানা আবশ্যক。
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, মক্কার একটি ধর্মীয় স্থানে অনৈতিক অপরাধের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল এবং আপিল ও সুপ্রিম আদালতের অনুমোদন শেষে রাজকীয় আদেশে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। তবে বিচার চলাকালে তাদের কোনো সরকারি আইনজীবী দেওয়া হয়েছিল কি না বা তাদের পরিবারকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে সৌদি বিবৃতিতে কোনো স্পষ্ট বিবরণ দেওয়া হয়নি。
হাইলাইটস:
- মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তির নাম নাজরুল ইসলাম ও সিতি আক্তার হিসেবে উল্লেখ করেছে সৌদি আরব।
- ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী আগাম তথ্য না পাওয়ায় নাগরিকত্ব ও বিচার নিশ্চিত করতে ঢাকায় কূটনৈতিক চিঠি প্রেরণ।
- জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার অপেক্ষায়।
তথ্যসূত্র: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কনস্যুলার অনুবিভাগ ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়