বিশ্বজুড়ে ক্ষতিকর অপচনশীল প্লাস্টিক ও পলিথিনের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের প্রেক্ষাপটে দেশীয় সোনালী আঁশ পাট ব্যবহার করে শতভাগ পরিবেশবান্ধব, জলরোধী ও বায়ো-ডিগ্রেডেবল (প্রাকৃতিকভাবে পচনশীল) খাদ্য প্যাকেজিং উপাদান উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) একদল তরুণ বিজ্ঞানী। বৃহস্পতিবার সংস্থাটির ঢাকা গবেষণাগারের ন্যানোপ্রযুক্তি ইউনিটে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এই নতুন উদ্ভাবিত বায়ো-ফিল্মের সফল ল্যাব পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়।
গবেষক দলের প্রধান বিজ্ঞানীরা জানান, পাটের সেলুলোজকে বিশেষ জৈব এনজাইম ও ন্যানো-প্রযুক্তির সাহায্যে প্রক্রিয়াজাত করে এই হালকা ও স্বচ্ছ মোড়ক তৈরি করা হয়েছে। এটি দেখতে প্রচলিত পলিথিনের মতো হলেও এতে কোনো ধরনের ক্ষতিকর সিন্থেটিক কেমিক্যাল নেই। সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি সাধারণ খাদ্যপণ্যের আর্দ্রতা ও তেল শতভাগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম, অথচ ব্যবহারের পর মাটিতে ফেলে দিলে মাত্র ২১ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে এটি সম্পূর্ণ গলে জৈব সারে পরিণত হয়, যা মাটির কোনো ক্ষতি করে না।
বিসিএসআইআরের বিজ্ঞানীরা আরও জানান, বাজারে প্রচলিত বায়ো-প্লাস্টিকগুলো সাধারণত ভুট্টা বা আলুর শ্বেতসার থেকে তৈরি হয়, যা খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং তুলনামূলক ব্যয়বহুল। বিপরীতে পাটের নিম্নমানের আঁশ ও ফেলে দেওয়া বর্জ্য ব্যবহার করেই এই মোড়ক অত্যন্ত কম খরচে উৎপাদন করা সম্ভব। স্থানীয় প্যাকেজিং শিল্প ও বৃহৎ চেইন সুপারশপগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে খুব শীঘ্রই এটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের লক্ষ্যে পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ উন্নত দেশগুলোতে একক ব্যবহার্য প্লাস্টিক নিষিদ্ধ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংয়ের শত বিলিয়ন ডলারের বাজার তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের পাট থেকে উদ্ভাবিত এই টেকসই প্রযুক্তি বিশ্ববাজারে দেশকে গ্রিন প্যাকেজিংয়ের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তর করার অপার সম্ভাবনা রাখে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পরিবেশ অধিদপ্তর
হাইলাইটস:
- অপচনশীল প্লাস্টিকের বদলে পাটের সেলুলোজ দিয়ে তৈরি পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং মোড়ক。
- পানিতে সহজে নষ্ট না হওয়া এবং মাটির নিচে মাত্র তিন সপ্তাহে সম্পূর্ণ পচে যাওয়ার বৈশিষ্ট্য。
- দেশীয় সুপারশপ ও আন্তর্জাতিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে ব্যবহারের ব্যাপক সম্ভাবনা。