দেশের সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোর শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে উচ্চ বেতনের পেশাদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ করে তুলতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ‘ডিজিটাল ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব’ চালুর নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরকে এই বিশেষ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়।
নতুন এই নির্দেশনার আওতায় পলিটেকনিকের ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের মূল কারিগরি কোর্সের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে চাহিদাসম্পন্ন জাপানি, কোরিয়ান, জার্মান ও ব্যবসায়িক ইংরেজি ভাষার ওপর বাধ্যতামূলক বিশেষ প্রশিক্ষণ মডিউল সম্পন্ন করতে হবে। প্রতিটি ভাষা ল্যাবে আধুনিক হেডফোন, ইন্টারেক্টিভ সফটওয়্যার এবং বিদেশি অভিজ্ঞ ভাষা প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে ভার্চুয়াল ক্লাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জনের সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক ভাষা পরীক্ষায় (যেমন জেএলপিটি বা টপিক) উত্তীর্ণ হতে পারেন।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অটোমোবাইল, মেকাট্রনিক্স ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে দক্ষ টেকনিশিয়ানদের বিপুল চাহিদা রয়েছে। তবে শুধু ভাষা দক্ষতার সনদের অভাবে আমাদের হাজার হাজার মেধাবী ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার এই সুযোগগুলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। সরকারি এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীরা কোনো ব্যয়বহুল বেসরকারি কোচিং ছাড়াই নিজ ক্যাম্পাসেই আন্তর্জাতিক মানের ভাষা শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
শিক্ষাবিদ ও প্রবাসী কল্যাণ বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলেন, শুধু অপ্রশিক্ষিত সাধারণ শ্রমিক না পাঠিয়ে দক্ষ ডিপ্লোমা গ্র্যাজুয়েটদের আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে পাঠাতে পারলে দেশের রেমিট্যান্স আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে ভাষা দক্ষতার এই চমৎকার মেলবন্ধন বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক সোনালী ভবিষ্যৎ তৈরি করবে।
তথ্যসূত্র: ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
হাইলাইটস:
- সরকারি পলিটেকনিকে জাপানি, কোরিয়ান ও জার্মান ভাষা শিক্ষার বিশেষ কোর্স চালু。
- আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভাষা পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের সরকারিভাবে প্রণোদনা ও ফি প্রদান。
- কারিগরি সনদের পাশাপাশি ভাষার দক্ষতা নিশ্চিত করে উচ্চ বেতনের বৈদেশিক কর্মসংস্থান。