আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের তিস্তা ব্যারেজ কমান্ড এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে বোরো ধান ও শীতকালীন রবিশস্যের ফলন নিশ্চিত করতে এবং পানির অপচয় রোধে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সুষম পানি বণ্টনের সময়সূচি চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। বৃহস্পতিবার লালমনিরহাটের ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উত্তরাঞ্চলের প্রকৌশলী ও স্থানীয় কৃষক প্রতিনিধিদের এক যৌথ সমন্বয় সভায় এই রূপরেখা অনুমোদন করা হয়। এর ফলে কমান্ড এলাকার লক্ষাধিক কৃষক আগাম সেচ সুবিধার আওতায় আসবেন।
পাউবোর প্রকৌশলীরা জানান, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীর পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় ব্যারেজের মূল ক্যানেল ও শাখা ক্যানেলগুলোতে রোস্টার বা পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতিতে পানি ছাড়া হবে। প্রথম ধাপে নীলফামারী ও রংপুর জেলার রবিশস্যের জমিতে এবং দ্বিতীয় ধাপে দিনাজপুর ও জয়পুরহাটের বোরো ধানের চারা রোপণের জন্য নির্ধারিত সময়ে পানি পৌঁছানো হবে। এছাড়া ক্যানেলের শেষ মাথায় থাকা প্রান্তিক কৃষকরা যাতে পর্যাপ্ত পানি পান, সেজন্য অবৈধভাবে পাম্প বসিয়ে পানি চুরির বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় পাউবো কৃষকদের শুধু ধান চাষের ওপর নির্ভরশীল না থেকে কম পানিনির্ভর লাভজনক ফসল যেমন ভুট্টা, ডাল, আলু ও তেলবীজ চাষের পরামর্শ দিয়েছে। এসব ফসল তিস্তার সীমিত সেচের পানিতেই স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ ফলন দিতে সক্ষম। সেচ ক্যানেলের স্লুইসগেটগুলো মেরামত ও আধুনিকায়ন সম্পন্ন হওয়ায় এবার পানির অপচয় শতকরা ২৫ ভাগ কমানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
উত্তরাঞ্চলের কৃষক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা পাউবোর আগাম পানি বণ্টন পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ক্যানেলে পানি ছাড়া হলে কৃষকদের অতিরিক্ত ডিজেল বা বিদ্যুৎ খরচ করে ভূগর্ভস্থ পানি তুলতে হবে না, যার ফলে উৎপাদন ব্যয় বহুলাংশে কমে আসবে। সঠিক পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তিস্তা অববাহিকায় খাদ্যশস্যের বাম্পার ফলন অর্জনে এই পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
তথ্যসূত্র: স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জেলা প্রশাসন
হাইলাইটস:
- নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুরের কমান্ড এলাকায় পর্যায়ক্রমে সেচের পানি সরবরাহের সিদ্ধান্ত。
- নদীর সীমিত পানি দিয়ে কৃষকদের কম পানিনির্ভর গম, ভুট্টা ও সরিষা চাষে অগ্রাধিকার。
- ক্যানেলের টেল-এন্ড বা প্রান্তিক এলাকার কৃষকদের সেচ নিশ্চিতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং কমিটি。