বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষিজমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং তীব্র খরার মারাত্মক সংকট থেকে খাদ্য সুরক্ষাকে রক্ষা করতে বিজ্ঞানীরা এক অভাবনীয় জেনেটিক সাফল্য অর্জন করেছেন। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি)-এর কৃষি জীববিজ্ঞানীরা উন্নত সিআরআইএসপিআর (CRISPR) জিনোম এডিটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে এমন এক নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করেছেন যা সাধারণ ধানের চেয়ে দ্বিগুণ লবণাক্ত পানিতেও স্বাভাবিক ফলন দিতে সক্ষম।
মাঠপর্যায়ের বিস্তৃত পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই নতুন জাতটি টানা তিন সপ্তাহ সেচবিহীন প্রচণ্ড খরা সহ্য করেও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শস্য উৎপাদন ধরে রাখতে পারে। উদ্ভিদের নিজস্ব শিকড় ব্যবস্থার বিশেষ এক জিনের প্রকাশ ঘটিয়ে এটি মাটির গভীরে প্রবেশ করে পানি ও পুষ্টি শোষণ করার এক প্রাকৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এই উদ্ভাবনকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কোটি কোটি প্রান্তিক কৃষকের ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তার জন্য পরম আশির্বাদ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, আগামী মৌসুমেই বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও ভারতের কৃষকদের মাঝে এই ধানের বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।
হাইলাইটস:
- জিনোম এডিটিংয়ের মাধ্যমে দ্বিগুণ লবণাক্ততা ও তীব্র খরা সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন।
- টানা তিন সপ্তাহ পানিহীন অবস্থায়ও স্বাভাবিক ফলন ধরে রাখতে সক্ষম নতুন শস্য।
- জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় কৃষকদের খাদ্য সুরক্ষায় যুগান্তকারী কৃষি আবিষ্কার।