নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলাগুলোতে মাটিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত লবণাক্ততা সহনশীল ধানের জাত চাষ করে অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছেন উপকূলের প্রান্তিক কৃষকরা। সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট ও পটুয়াখালীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে ব্রি ধান-৬৭ এবং ব্রি ধান-৯৭ আবাদ করে হেক্টরপ্রতি রেকর্ড পরিমাণ ফলন অর্জিত হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুষ্ক মৌসুমে সমুদ্রের নোনা পানি প্রবেশের কারণে এসব এলাকায় বছরের পর বছর হাজার হাজার একর উর্বর জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। ব্রি-র বিজ্ঞানীদের পরামর্শে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সহনশীল জাতের বীজ বিতরণ এবং ড্রিপ সেচ ব্যবস্থার প্রশিক্ষণ দেওয়ায় এবার লবণাক্ত জমিতে সোনালি ধানের সমারোহ দেখা গেছে। রোগবালাই কম হওয়ায় উৎপাদন খরচও ছিল অনেক কম।
কৃষি অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, উপকূলের পতিত জমিকে সফলভাবে চাষের আওতায় নিয়ে আসার এই মডেল দেশের সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহত করতে অনন্য ভূমিকা রাখবে। এই জাতের চাষ সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে সরকারি ভর্তুকি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তারা।
হাইলাইটস:
- সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী ও বরগুনার পতিত লবণাক্ত জমিতে আধুনিক ধানের আবাদ।
- ব্রি উদ্ভাবিত ব্রি ধান-৬৭ ও ব্রি ধান-৯৭ চাষ করে শত শত কৃষকের বাম্পার ফলন লাভ।
- জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উপকূলের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক বিপ্লব।