নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙন থেকে শত শত একর আবাদি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বসতভিটা রক্ষায় স্থায়ী তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের মেগা প্রকল্প পুরোদমে শুরু করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির কংক্রিট সিসি ব্লক ও ভারী জিওব্যাগ ফেলে তীর সংরক্ষণের কাজ চালানো হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমের আগেই প্রাথমিক স্তরের কাজ সম্পন্ন করার কঠোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জানিয়েছেন, প্রতি বছর তিস্তার ভাঙনে হাজার হাজার পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়ে। এই মানবিক বিপর্যয় রোধে অস্থায়ী বালির বস্তার পরিবর্তে এবার দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নকশায় বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। বাঁধের স্থায়িত্ব বাড়াতে নদীর গভীরতা ও পানির তীব্র স্রোতের গতিপথ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর হাইড্রোলজিক্যাল মডেলের মাধ্যমে নিয়মিত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা এই দ্রুত উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, স্থায়ী বাঁধ নির্মিত হলে এই জনপদের লাখ লাখ কৃষকের জীবন ও জীবিকা নিশ্চিত হবে। কাজের স্বচ্ছতা রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সরাসরি নজরদারির সুযোগ রাখা হয়েছে।
হাইলাইটস:
- কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও রংপুরে নদীভাঙন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি প্রকল্প অনুমোদন।
- ঐতিহ্যবাহী বসতবাড়ি ও ফসলি জমি রক্ষায় জিওব্যাগ ও কংক্রিট সিসি ব্লকের স্থায়ী বাঁধ।
- কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষ টাস্কফোর্স মোতায়েন।