ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দ্বিপক্ষীয় ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ইসরায়েলের একটি প্রধান শহরে মারাঠা সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের একটি বিশাল ভাস্কর্য স্থাপনের ঐতিহাসিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
মুম্বাইয়ে নিযুক্ত ইসরায়েলের কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাখ শিব রাজ্যাভিষেক দিবস উপলক্ষে এই বিশেষ ঘোষণা দেন। এই উদ্যোগের ফলে ভারতের সাধারণ মানুষের সাথে ইসরায়েলি জনগণের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে কূটনৈতিক মহল আশা করছে।
কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাখ সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানান, ভারতের ইতিহাসে ছত্রপতি শিবাজী মহারাজের গভীর প্রভাব ও গুরুত্ব সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণ অবগত। এই কারণেই একটি বড় আকৃতির ভাস্কর্য তৈরি করে তা ইসরায়েলের একটি বড় শহরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ কোনো প্রকল্পের বাইরে গিয়ে দুই দেশের মানুষকে মানসিকভাবে কাছাকাছি নিয়ে আসবে।
এই স্মারকটি যেন মহারাজের গৌরবময় ইতিহাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেজন্য মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের কাছে ঐতিহাসিক তথ্য ও নকশাগত সহযোগিতা চাওয়া হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিশকে লেখা এক চিঠিতে ইসরায়েলি কূটনীতিক উল্লেখ করেছেন, ইসরায়েলের মাটিতে শিবাজী মহারাজের এই ভাস্কর্য দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে কাজ করবে।
বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতীয় ইহুদি সম্প্রদায়ের যে ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে, এবং যাদের বংশধরেরা বর্তমানে ইসরায়েলি সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন, সেই প্রেক্ষাপটে এই স্মারকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো ইসরায়েলিদের মাঝে শিবাজী মহারাজের জীবন ও বীরত্বগাথা ছড়িয়ে দেওয়া এবং তার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
ভারতে ভ্রমণের সময় এ দেশের মানুষের চোখে ইসরায়েল ও তাদের জাতীয় বীরদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা দেখেছেন উল্লেখ করে ইয়ানিভ রেভাখ বলেন, এই পারস্পরিক বন্ধুত্বের প্রতিফলন হিসেবেই মুম্বাইয়ের ইসরায়েলি কনসুলেট জেনারেল ভাস্কর্যটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই ঘোষণার পর মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে একটি ঐতিহাসিক খবর হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের জন্য ইসরায়েলি কনসাল জেনারেলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং এই কাজে মহারাষ্ট্র সরকার পূর্ণ সমর্থন দেবে বলে স্পষ্ট ভাষায় প্রতিশ্রুতি দেন।
সূত্র: এনডিটিভি।