নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য, লাগামহীন খাদ্য মূল্যস্ফীতি এবং প্রকৃত আয় কমে যাওয়ার কারণে দেশের প্রায় ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ পরিবার এখন দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদা মেটাতে ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। শীর্ষস্থানীয় অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালিত এক যৌথ জাতীয় খানা জরিপে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, নিম্নবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর সিংহভাগ চাল, ডাল, তেল ও ওষুধের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে সঞ্চয় ভেঙে ফেলেছেন এবং পরবর্তীতে আত্মীয়স্বজন, এনজিও বা চড়া সুদের মহাজনি ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েছেন। চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো মৌলিক সেবাখাতেও ব্যয় কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ এবং খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি তৃণমূল পর্যায়ে না পৌঁছালে পারিবারিক ঋণ সংকট দেশের অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয়কে সংকুচিত করবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতির পাশাপাশি সরবরাহ শৃঙ্খলে কঠোর বাজার তদারকি নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়
হাইলাইটস:
- নিত্যপণ্যের দাম ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপে দেশের ৪৮.৭ শতাংশ পরিবার ঋণগ্রস্ত হওয়ার তথ্য।
- সঞ্চয় ফুরিয়ে যাওয়ায় দৈনন্দিন খাদ্য ক্রয়ে ধারদেনা ও এনজিও ঋণের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি।
- নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিতে বাজার তদারকি ও সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান।