ফ্রান্সে সপ্তাহব্যাপী চলমান ছাত্র বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অসন্তোষ আকস্মিক চরম রূপ নিয়ে সারা দেশে বড় ধরনের সংঘর্ষ, সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক লুটপাটে ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী প্যারিস, লিয়ন, তুলুজ ও মার্সেইসহ প্রধান ফরাসি শহরগুলোতে ব্যারিকেড তৈরি করে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও টিয়ারশেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাস আগে শুরু হওয়া এই তীব্র গণঅসন্তোষকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের সংকট হিসেবে দেখছেন। পাবলিক সার্ভিসে বাজেট সংকোচন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সুযোগ-সুবিধা হ্রাসের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন সরকারবিরোধী সামগ্রিক রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে হাজার হাজার দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত কয়েকশ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অগ্নিসংযোগ নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ ইউনিট কাজ করছে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রী শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সহিংসতার মাধ্যমে কোনো সংকটের সমাধান সম্ভব নয় এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে।
হাইলাইটস:
- ফ্রান্সে ছাত্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা।
- প্যারিস, লিয়ন ও মার্সেইতে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ, নিরাপত্তা জোরদারে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন।
- প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ৬ মাস আগে দেশজুড়ে গভীর রাজনৈতিক সংকটে ম্যাক্রোঁ প্রশাসন।
তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্র ও জাতিসংঘ দপ্তর