পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম, তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকে থাকা ৮৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের তদন্ত
দুদকের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নামে-বেনামে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় শত কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন। এসব ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনকভাবে কোটি কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন ও বিদেশে অর্থ পাচারের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। দুদকের তদন্ত দল সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের বিশেষ শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফাইল আটকে রেখে অবৈধ সুবিধা আদায়ের অসংখ্য সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এসব লেনদেনের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকের মেয়াদি আমানত ও সঞ্চয়পত্রে রূপান্তর করা হয়েছিল।
আদালতের নির্দেশে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে অবিলম্বে এসব ব্যাংক হিসাব থেকে যেকোনো ধরনের অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর স্থগিত রাখার নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মনিরুল ইসলামের নামে থাকা বিভিন্ন প্লট, ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানার নথি জব্দের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ও আইনি পদক্ষেপ
দুদকের আইনজীবী আদালতকে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা যাতে দেশের অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নিতে না পারেন বা আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ব্যাংক হিসাব খালি করতে সমাধানে না পারেন, সেজন্য এই জরুরি আদালতের আদেশ প্রয়োজন ছিল। তদন্ত শেষে অতি দ্রুত এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে। আদালতের আদেশের অনুলিপি অবিলম্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটসহ সকল বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। দুদক সচিব জানিয়েছেন, আসামিরা যাতে কোনোভাবেই আদালত বা তদন্তের বাইরে যেতে না পারেন, সেজন্য তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারির প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হচ্ছে।
আইনজীবীরা বলছেন, রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে আসীন ব্যক্তিদের ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি। দুদক জানিয়েছে, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধেও সমান্তরাল অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
হাইলাইটস:
- সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম ও পরিবারের ৮৩টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আদালতের আদেশ।
- ক্ষমতার অপব্যবহার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ।
- বিএফআইইউর মাধ্যমে সকল ব্যাংকে অর্থ উত্তোলন ও স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি।
তথ্যসূত্র: কৃষি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)