Home » এডিস মশার প্রজননস্থল আগেভাগেই শনাক্তে ঢাবি গবেষকদের স্মার্ট ট্র্যাপ উদ্ভাবন

এডিস মশার প্রজননস্থল আগেভাগেই শনাক্তে ঢাবি গবেষকদের স্মার্ট ট্র্যাপ উদ্ভাবন

কর্তৃক Towkir Hasan
০ মন্তব্য
এডিস মশার প্রজননস্থল আগেভাগেই শনাক্তে ঢাবি গবেষকদের স্মার্ট ট্র্যাপ উদ্ভাবন

ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশার বংশবৃদ্ধি প্রাথমিক পর্যায়েই স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট ট্র্যাপ’ উদ্ভাবন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা ও তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের একদল তরুণ গবেষক। এই যন্ত্রটি মশার ঘনত্ব পরিমাপ করে নগর কর্তৃপক্ষকে আগাম সতর্কবার্তা দিতে সক্ষম।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত সেন্সর ও স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং

গবেষক দলের প্রধান জানান, এই স্মার্ট ট্র্যাপে অপটিক্যাল সেন্সর, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা পরিমাপক যন্ত্র এবং মাইক্রো-কন্ট্রোলার যুক্ত রয়েছে। ট্র্যাপের ভেতরে সংরক্ষিত স্বচ্ছ পানিতে মশা ডিম পাড়ার সাথে সাথেই সেন্সর তার শারীরিক কম্পাঙ্ক ও আকার বিশ্লেষণ করে এটি এডিস মশা কি না তা শতভাগ নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারে। গবেষক দলের সদস্যরা জানান, উদ্ভাবিত এই ডিভাইসে একটি স্বয়ংক্রিয় এনার্জি-সেভিং প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে যা অত্যন্ত কম বিদ্যুতে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকে। মশার লার্ভা শনাক্তকরণের পাশাপাশি এটি বাতাসের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা রেকর্ড করে যা স্থানীয় পর্যায়ের জলবায়ু ও রোগ ছড়ানোর পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের জন্য মূল্যবান ডেটা হিসেবে কাজ করবে।

শনাক্তকরণের পরপরই ডিভাইসটি ক্লাউড নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সিটি কর্পোরেশনের কেন্দ্রীয় মনিটরিং ড্যাশবোর্ডে জিপিএস লোকেশনসহ সংকেত পাঠিয়ে দেয়। এর ফলে মশা পূর্ণাঙ্গ পতঙ্গে রূপ নেওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে ওই এলাকায় গিয়ে লার্ভিসাইড প্রয়োগ করে প্রজননস্থল ধ্বংস করতে পারবে।

সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ও মাঠপর্যায়ে সফল পরীক্ষামূলক প্রয়োগ

গবেষকরা জানান, সম্পূর্ণ দেশীয় যন্ত্রাংশে তৈরি হওয়ায় প্রতিটি ট্র্যাপের উৎপাদন খরচ অত্যন্ত সীমিত এবং এগুলো সৌরবিদ্যুৎ প্যানেলের সহায়তায় নিরবচ্ছিন্নভাবে মাসের পর মাস পরিচালিত হতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় পরিচালিত প্রাথমিক পরীক্ষায় এই প্রযুক্তির শতকরা ৯৫ ভাগ কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড এই উদ্ভাবনকে পেটেন্ট রেজিস্ট্রেশন এবং স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের সাথে যৌথ অংশীদারিত্বে বাণিজ্যিক উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে অন্তত দশটি করে স্মার্ট ট্র্যাপ স্থাপনের একটি প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এই দেশীয় প্রযুক্তিকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে নিয়ে আসার জন্য বিশেষ উদ্ভাবনী তহবিল বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, এই স্মার্ট ট্র্যাপ দেশজুড়ে মোতায়েন করা গেলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অনেকটাই শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। জনস্বাস্থ্য ও প্রযুক্তির এমন মেলবন্ধন জাতীয় পর্যায়ে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

হাইলাইটস:

  • এডিস মশা আগাম শনাক্তে ঢাবি গবেষকদের আইওটি ও এআই প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট ট্র্যাপ উদ্ভাবন।
  • ডিম পাড়ার সাথে সাথে জিপিএস লোকেশনসহ সিটি কর্পোরেশন ড্যাশবোর্ডে স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা।
  • ধানমন্ডি ও ক্যাম্পাস এলাকায় প্রাথমিক পরীক্ষায় ৯৫ শতাংশ কার্যকারিতা ও কম খরচে পরিচালনার সুযোগ।

তথ্যসূত্র: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ

আপনার আরও পছন্দ হতে পারে

একটি মন্তব্য করুন