বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে গুণী শিক্ষক সম্মাননা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১০০ জন শিক্ষককে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। সোমবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষকদের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবারের শিক্ষক দিবসের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য হলো শিক্ষকের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি করা। জাতি গঠনে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি জানাতেই এই মহতী সম্মাননার সূচনা হলো।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি শিক্ষাস্তরকে এই জাতীয় মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০ জন এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষক স্থান পেয়েছেন। উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি কলেজ পর্যায়ে ২৫ জন শিক্ষক এই রাষ্ট্রীয় পদক পাচ্ছেন। সাধারণ সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ২০ জন সেরা অধ্যাপক। বিশেষায়িত শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে মেডিকেল কলেজগুলোর ১০ জন শিক্ষককে সম্মানিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন বিশেষজ্ঞ শিক্ষক রয়েছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ জন এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কোটায় ৫ জনকে মনোনীত করা হয়েছে।
উপজেলা ও জেলা পর্যায় থেকে তথ্য যাচাই করে অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদান, গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ এবং শিক্ষার্থীদের মানবিক বিকাশে ভূমিকা মূল্যায়নে প্রাধান্য পেয়েছে। শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ইতিবাচক সূচনা হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষাবিদরা বলছেন শিক্ষকদের সামাজিক সম্মান নিশ্চিত না হলে কোনো শিক্ষাক্রমই টেকসই ফল দিতে পারে না।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে আজ দেশের সব স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। সকালে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। স্থানীয় পর্যায়েও প্রবীণ অবসরপ্রাপ্ত গুণী শিক্ষকদের উত্তরীয় পরিয়ে সম্মান জানানো হয়েছে। ১৯৯৩ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ সম্মেলনে প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে শ্রদ্ধার সঙ্গে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। আজকের দিনে শিক্ষকরাও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার শপথ পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে জাতীয় বাজেটের বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক স্তরের শিশুদের জন্য বিনামূল্যে পুষ্টিকর মিড-ডে মিল ও পোশাক সরবরাহ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে আধুনিক প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। একটি মেধাভিত্তিক ও আত্মমর্যাদাশীল সমাজ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা চিরকাল অনন্য হয়ে থাকবে বলে বক্তারা অভিমত প্রকাশ করেছেন।
হাইলাইটস:
- বিশ্ব শিক্ষক দিবসে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের ১০০ জন গুণী শিক্ষককে জাতীয় সম্মাননা দিচ্ছে সরকার।
- ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
- গবেষণা, নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের মানবিক বিকাশে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পদক প্রদান।