বান্দরবানে ইয়াবা জব্দ করার এক বড় অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। ভোরে নাইক্ষ্যংছড়ির নয়াপাড়া সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। বিজিবি-৩৪ ব্যাটালিয়নের বিশেষ টহল দল এই সফল সীমান্ত অভিযান পরিচালনা করে। মাদক পাচারকারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাহাড়ি জঙ্গল দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় পরিত্যক্ত ইয়াবার বড় চালানটি উদ্ধার করা হয়। সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে জব্দ করা এই ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক একটি মাদক চক্র এই সীমান্ত রুট ব্যবহার করার চেষ্টা করছিল। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি পথ ও ঘন বনাঞ্চলকে তারা পাচারের করিডোর হিসেবে ব্যবহার করে। বিজিবি সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আগে থেকেই ওই এলাকায় কৌশলগত ফাঁদ তৈরি করেছিলেন। পাচারকারীরা পাহাড়ি খাদের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে গেলেও তাদের ব্যবহৃত মাদকের চালানটি আটক সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে বান্দরবান ও কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকা মাদক চোরাচালানের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথের প্রবেশ রোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু ও ঘুমধুম সীমান্ত পয়েন্টে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পাহাড়ি রাস্তায় দিনরাত ২৪ ঘণ্টা বিশেষ তল্লাশিচৌকি কার্যকর রাখা হয়েছে। মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত স্থানীয় সহযোগীদের তালিকা প্রস্তুত করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বান্দরবান জেলা পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরও এই ঘটনায় যৌথ তদন্ত শুরু করেছে। জব্দকৃত ইয়াবা ধ্বংস করার জন্য যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আদালতে জমা দেওয়া হচ্ছে। পলাতক মাদক কারবারিদের শনাক্ত করতে বিজিবির নিজস্ব গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তের ওপার থেকে মাদক আসার প্রতিটি সম্ভাব্য পয়েন্টে আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি বসানো হচ্ছে। নাইক্ষ্যংছড়ির স্থানীয় বাসিন্দারাও মাদকবিরোধী এই ধারাবাহিক অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীকে সার্বিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ রয়েছে। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল আগ্রাসন থেকে রক্ষা করতে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ চিরুনি অভিযান চলবে। বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন দেশের সীমান্তকে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র রাখতে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। ভবিষ্যতে যে কোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ দমনে বাহিনীটি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। সীমান্তে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে নিয়মিত সচেতনতামূলক সভাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
হাইলাইটস:
- বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৪ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ।
- উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি-৩৪ ব্যাটালিয়ন।
- সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ রোধে পাহাড়ি এলাকায় নজরদারি জোরদার।