Home » ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিবাচক আভাস

ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিবাচক আভাস

কর্তৃক Towkir Hasan
০ মন্তব্য
ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিবাচক আভাস

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭টি সদস্য দেশে তৈরি পোশাকের আমদানি সংকোচন ধীরে ধীরে কমে আসায় ২০২৬ সালের শেষ প্রান্তিক এবং ২০২৭ সালের শুরুতে বাংলাদেশের প্রধান এই রপ্তানি খাতটি ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসার জোরালো আভাস মিলেছে। ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট এবং বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাম্প্রতিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মূল্যস্ফীতি কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় ইউরোপীয় ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়তে শুরু করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশ থেকে পুনরায় নতুন মৌসুমের ক্রয়াদেশের পরিমাণ বৃদ্ধি করছে।

রপ্তানি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বিগত কয়েক মাস ধরে উচ্চ সুদহার এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ইউরোপের খুচরা বাজারে পোশাক বিক্রি স্থবির হয়ে পড়েছিল। তবে সম্প্রতি ব্র্যান্ডগুলোর গুদামে জমে থাকা পুরোনো কাপড়ের মজুত দ্রুত শেষ হওয়ায় তারা নতুন পোশাক সংগ্রহের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। জার্মানি, স্পেন, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসের মতো প্রধান বাজারগুলোতে নিটওয়্যার ও ওভেন পোশাকের চাহিদা পুনরায় বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে কমদামি বেসিক টি-শার্ট, ডেনিম এবং জ্যাকেটের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক ক্রেতারা বাংলাদেশকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে বিবেচনা করছে।

বিজিএমইএর শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে কারখানাগুলোতে পরিবেশবান্ধব সবুজ উৎপাদন ব্যবস্থা জোরদার করা এবং গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের আসন্ন নতুন টেকসই ও মানবাধিকার নীতিমালার শর্তাবলি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করার তাগিদ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট গবেষকরা। তৈরি পোশাকের এই ইতিবাচক গতিশীলতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে নতুন স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়

হাইলাইটস:

  • ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি পুনরায় গতিশীল হওয়ার সুস্পষ্ট আভাস।
  • খুচরা বাজারে মজুত হ্রাস ও মূল্যস্ফীতি কমায় জার্মানি-স্পেন থেকে নতুন ক্রয়াদেশ বৃদ্ধি।
  • রপ্তানির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনের তাগিদ।

আপনার আরও পছন্দ হতে পারে

একটি মন্তব্য করুন