জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কার ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা ক্ষমতার রাজনীতি এবং আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রে জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাষ্ট্র সংস্কার এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন গভীর আইনি, সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও সুপ্রিম কোর্ট অধ্যাদেশ বাতিলের সমালোচনা
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এক বিবৃতিতে বলেন, ৩১ দফা কর্মসূচি ও নির্বাচনী ইশতেহারে রাষ্ট্র সংস্কার এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও বিজয়ী দলের সংসদ সদস্যরা প্রস্তাবিত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় পুরো সংস্কার প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিল করে সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের পথে পশ্চাৎমুখী অবস্থান নিয়েছে।
দুদক অধ্যাদেশ ও গুম প্রতিরোধ আইন নিয়ে গভীর উদ্বেগ
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংশোধন অধ্যাদেশ আইনে পরিণত না করে ২০০৪ সালের পুরোনো আইনে ফিরে যাওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত দুদকের ওপর জনআস্থার সংকট কাটানোর পথ বন্ধ করে দিয়েছে। একইভাবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল করে প্রণীত নতুন আইনটিও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের পরিপন্থী।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিল করে এমন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে যা গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী সংস্থাগুলোকে সুরক্ষা দেয়। এছাড়া র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্তির আড়ালে নতুন নামে সংস্থাটিকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বলে টিআইবি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
হাইলাইটস:
- ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক চক্রে জুলাই জাতীয় সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কার জিম্মি হওয়ার অভিযোগ।
- দুদক সংশোধন অধ্যাদেশ পাস না করে ২০০৪ সালের পুরোনো আইনে ফিরে যাওয়ায় টিআইবির ক্ষোভ।
- সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ও গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলকে পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা।
তথ্যসূত্র: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থা