Home » বিশ্ববাজারে এআই প্রযুক্তির মন্দা ও আন্তর্জাতিক সংকটে দেশের শেয়ারবাজারে টানা দরপতন

বিশ্ববাজারে এআই প্রযুক্তির মন্দা ও আন্তর্জাতিক সংকটে দেশের শেয়ারবাজারে টানা দরপতন

কর্তৃক Towkir Hasan
০ মন্তব্য
বিশ্ববাজারে এআই প্রযুক্তির মন্দা ও আন্তর্জাতিক সংকটে দেশের শেয়ারবাজারে টানা দরপতন

আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শেয়ারে মাত্রাতিরিক্ত মূল্যায়নের সংশোধনী এবং মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) টানা দরপতন অব্যাহত রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণে সূচকের পাশাপাশি কমেছে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ।

ডিএসইএক্স সূচক ৫০ পয়েন্ট হ্রাস ও ব্লু-চিপ শেয়ারে বিক্রি চাপ

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেনের শুরু থেকেই বিদ্যুৎ, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যাংকিং খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর শেয়ারে তীব্র বিক্রির চাপ তৈরি হয়। দিনশেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৫০ দশমিক ৪ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ২০০ পয়েন্টের নিচে নেমে গেছে। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর হ্রাস পেয়েছে। বাজার বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের আন্তর্জাতিক সংশোধনীর পাশাপাশি দেশের মুদ্রাবাজারে সুদের হার বৃদ্ধি এবং ডলারের তারল্য সতর্কতার কারণে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা মূলধনী লাভ তুলে নিয়ে সাইডলাইনে অবস্থান করছেন। ফলে বাজারে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার চাপ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আন্তর্জাতিকভাবে ওয়াল স্ট্রিট ও ইউরোপীয় বাজারে প্রযুক্তি খাতের বড় বড় টেক জায়ান্টের মুনাফা সংশয়ের কারণে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে অর্থ প্রত্যাহার করছেন। দেশের পুঁজিবাজারেও এর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়েছে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি বাড়িয়েছেন বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি ও পুঁজিবাজার সংস্কার

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এক জরুরি বার্তায় জানিয়েছে, শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে তালিকাভুক্ত দুর্বল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে বিশেষ পরিদর্শন চলছে। গুজব ছড়িয়ে বাজারে কৃত্রিম মন্দা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধারণের পরামর্শ দিয়ে বলেছে, ফান্ডামেন্টাল কোম্পানিগুলোর শেয়ারের বর্তমান মূল্য আকর্ষণীয় পর্যায়ে রয়েছে। নীতিগত সংস্কার ও সরকারের আস্থা বৃদ্ধিমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বাজার দ্রুতই স্থিতিশীলতায় ফিরবে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো বিশেষ করে রেমিট্যান্স ও রফতানি আয় স্থিতিশীল অবস্থায় থাকায় আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রাতিষ্ঠানিক ফান্ডগুলো বাজারে সক্রিয় হলে খুব দ্রুতই পুঁজিবাজার পুনরায় ইতিবাচক ধারায় ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির মূল ভিত্তিগুলো শক্তিশালী থাকায় বিনিয়োগকারীদের গুজবে কান না দিয়ে ধৈর্য সহকারে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি সব ধরনের সতর্কতামূলক আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। ফলে দ্রুতই বাজারে স্বস্তি ফিরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

হাইলাইটস:

  • বিশ্ববাজারে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের মন্দায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫০ পয়েন্ট হ্রাস।
  • জ্বালানি ও ব্যাংকিং খাতের ব্লু-চিপ শেয়ারে বিক্রি চাপ, লেনদেনের গতি কমেছে।
  • গুজব প্রতিরোধে বিএসইসির কড়া নজরদারি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ সক্রিয় করার আহ্বান।

তথ্যসূত্র: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ

আপনার আরও পছন্দ হতে পারে

একটি মন্তব্য করুন