রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমির। স্কেচ: সরকারি সূত্র। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমির গত ১৪ অক্টোবর বলেছেন, পূর্ববর্তী প্রশাসনের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার সরকারি কৌশলের প্রতি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদাররা আস্থা প্রকাশ করেছে।
তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনায় দেশের অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা এবং সেগুলো মোকাবেলায় সরকারের গৃহীত পন্থা সম্পর্কে একটি অভিন্ন বোঝাপড়া প্রতিফলিত হয়েছে।”
এখানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার এক ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা এ মন্তব্য করেন। তিতুমির বলেন, আলোচনায় তিনটি মূল বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে: সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে এর দুর্বলতাগুলো মোকাবেলা করছে; মধ্যপ্রাচ্য সংকট থেকে উদ্ভূত নতুন মুদ্রাস্ফীতির চাপ মোকাবেলায় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে; এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য সরকারের কর্মসূচিগুলোকে আন্তর্জাতিক অংশীদাররা বাস্তবসম্মত বলে মনে করেছে। “আমরা সমস্যাগুলো ধামাচাপা না দিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে সেগুলোর সমাধান করছি। আমাদের নিজস্ব কৌশল রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদাররা সেই কৌশলের ওপর আস্থা তৈরি করেছে,” তিনি বলেন। উপদেষ্টা বলেন, সরকার তার সংস্কার কর্মসূচির জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, চায়না এক্সিম ব্যাংক এবং বিভিন্ন মার্কিন সহায়তা সংস্থার সাথে আলোচনা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়ে অগ্রগতি হবে। তিতুমির বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে মুদ্রাস্ফীতির চাপ থেকে রক্ষা করা সরকারের একটি প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মধ্যে জ্বালানির উচ্চমূল্য পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়াতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামকে প্রভাবিত করবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার মুদ্রাস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ভার কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড এবং ফার্মার্স কার্ড কর্মসূচি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগগুলো মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও কৃষকদের সহায়তা করবে এবং দারিদ্র্য আরও বাড়ার ঝুঁকি কমাবে।
হাইলাইটস:
- রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমির।
- তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আলোচনায় দেশের অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা এবং সেগুলো মোকাবেলায় সরকারের গৃহীত পন্থা সম্পর্কে একটি অভিন্ন বোঝাপড়া প্রতিফলিত হয়েছে।
- এখানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার এক ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপদেষ্টা এ মন্তব্য করেন।
তথ্যসূত্র: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ