Home » মুসলিম সমাজে মোনাফেক কারা, তারা কীভাবে কাজ করে

মুসলিম সমাজে মোনাফেক কারা, তারা কীভাবে কাজ করে

কর্তৃক Towkir Hasan
০ মন্তব্য
মুসলিম সমাজে মোনাফেক কারা, তারা কীভাবে কাজ করে

জারবোয়া যখন মাটির নিচে নিজের থাকার জন্য গর্ত তৈরি করে, তখন সে বিপদের সময় পালানোর জন্য একটি বিকল্প পথও খুঁড়ে রাখে। এই গোপন পথের মুখে সে মাটির খুব পাতলা একটি আস্তরণ দিয়ে রাখে, যেন বাইরে থেকে বোঝা না যায়। বিপদের আঁচ পেলে সে মাথা দিয়ে ধাক্কা দিয়ে সেই পাতলা মাটির স্তর ভেঙে দ্রুত পালিয়ে যায়।

আরবরা জারবোয়ার গর্তের এই প্রথম ও মূল পথকে বলত ‘কাসিয়া’ এবং দ্বিতীয় গোপন পথকে বলত ‘নাফিকা’। এই ‘নাফিকা’ শব্দ থেকেই ‘নিফাক’ বা মোনাফেকির ধারণাটি এসেছে। কারণ মোনাফেকদের চরিত্রও ঠিক এই প্রাণীর মতোই; তাদের বাইরে থাকে এক রূপ, আর ভেতরে থাকে গোপন গর্ত, যার মাধ্যমে তারা সুযোগ পেলে প্রতারণার আশ্রয় নেয়। মক্কায় ইসলামের প্রথম যুগে মুসলিমদের অবস্থা যখন দুর্বল ছিল, তখন অবিশ্বাসীরা সরাসরি শত্রুতা প্রকাশ করত। কিন্তু মহানবী (সা.) ও তাঁর সাহাবিরা যখন হিজরত করে মদিনায় গেলেন, তখন সমাজচিত্র বদলে গেল। সেখানে এমন একদল মানুষের উদ্ভব হলো, যারা মুখে ইসলামের কথা বললেও ভেতরে ভেতরে অবিশ্বাস, অহংকার ও শত্রুতা লালন করত। মদিনার নতুন পরিবেশে মুসলিমদের ক্ষমতা ও প্রভাব বাড়তে থাকায় তারা সরাসরি বিরোধিতা করার সাহস পায়নি। তাই তারা এমন এক ভয়াবহ আদর্শিক ও আচরণগত বিকৃতির পথ বেছে নিল, যার সঙ্গে মুসলিমরা আগে পরিচিত ছিল না। মোনাফেকরা সবসময়ই এক ধরনের মানসিক দ্বন্দ্বে ভোগে। বাইরে তারা নিজেদের মুসলিম সমাজের অংশ হিসেবে জাহির করে, কিন্তু ভেতরে তারা সেই সমাজের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি প্রবল নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে। এই স্ববিরোধিতার কারণে তাদের ভেতরটা সবসময় অশান্ত থাকে এবং তারা তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভোগে। এই মানসিক অবস্থা একটি ‘ব্যাধি’। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “তাদের অন্তরে রয়েছে ব্যাধি। অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন।” (সুরা বাকারা, আয়াত: ১০) এই ব্যাধি একপর্যায়ে ক্যান্সারের মতো সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। তারা নিজেদের এই ব্যাধি অন্যদের মধ্যেও সংক্রমিত করতে চায়, যা শেষ পর্যন্ত সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে ধ্বংস করে এবং সমাজের সাধারণ শান্তি বিঘ্নিত করে। পরকালেও যখন মুমিন ও মোনাফেকদের মধ্যে কথোপকথন হবে, তখন মোনাফেকরা মুমিনদের আলো থেকে একটু সুবিধা নিতে চাইবে। তারা দাবি করবে যে পৃথিবীতে তো তারা মুমিনদের কাতারেই ছিল। তারা ধূর্ততার সঙ্গে মুমিনদের জিজ্ঞেস করবে, “আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না?”

এর জবাবে তাদের কপটতার চারটি দিক উন্মোচন করে বলা হবে, “হ্যাঁ, কিন্তু তোমরা নিজেরাই নিজেদের বিপদগ্রস্ত করেছ। তোমরা (মুমিনদের অমঙ্গলের) অপেক্ষায় ছিলে, তোমরা সন্দেহ পোষণ করেছিলে এবং মিথ্যা আশা তোমাদের প্রতারিত করেছিল; যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ এসে পৌঁছাল। আর প্রতারক (শয়তান) তোমাদের আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারিত করেছিল।” (সুরা হাদিদ, আয়াত: ১৪) উপরে জবাবের মাঝেই মোনাফেকদের প্রধান চারটি বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। ১. ভেতরে এক, বাইরে অন্য: তারা মুখে যা বলে, অন্তরে তা বিশ্বাস করে না এবং কাজেও তা প্রমাণ করে না। তারা এমন সব নৈতিক আদর্শের বুলি আওড়ায়, যা নিজেরা কখনোই পালন করে না। আবার তারা এমন সব কাজের সমালোচনা করে, যা তারা নিজেরাই গোপনে করে বেড়ায়।

হাইলাইটস:

  • আরব মরুভূমির এক ছোট্ট ও চঞ্চল প্রাণী ‘জারবোয়া’।
  • জারবোয়া যখন মাটির নিচে নিজের থাকার জন্য গর্ত তৈরি করে, তখন সে বিপদের সময় পালানোর জন্য একটি বিকল্প পথও খুঁড়ে রাখে।
  • আরবরা জারবোয়ার গর্তের এই প্রথম ও মূল পথকে বলত ‘কাসিয়া’ এবং দ্বিতীয় গোপন পথকে বলত ‘নাফিকা’।

তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর

আপনার আরও পছন্দ হতে পারে

একটি মন্তব্য করুন