নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দেশের বিভিন্ন সরকারি ডেটাবেজ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর (সিআইআই) ডিজিটাল নিরাপত্তা সুসংহত করতে এবং সংবেদনশীল নাগরিক তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী বিশেষ সাইবার সিকিউরিটি সতর্কতা জারি করেছে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি (এনসিএসএ)। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় দেশের সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং টেলিকম অপারেটরদের কাছে অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য এই জরুরি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেসকল সার্ভার ও অ্যাপ্লিকেশন নাগরিক সেবা ও ব্যক্তিগত ডেটা প্রক্রিয়াজাত করে, সেগুলোতে অবিলম্বে টু-ফ্যাক্টর বা মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (এমএফএ) কার্যকর করতে হবে। ডেটাবেজগুলোতে সংরক্ষিত সকল সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য আধুনিক ক্রিপ্টোগ্রাফিক অ্যালগরিদম ব্যবহার করে এনক্রিপ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সার্ভারের পুরনো সিকিউরিটি প্যাচ হালনাগাদ করা, ডিফল্ট পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এবং নিয়মিত দুর্বলতা মূল্যায়ন ও পেনিট্রেশন টেস্টিং (ভিএপিটি) পরিচালনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ডিজিটাল লিটারেসি সেন্টার থেকে সাধারণ নাগরিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ ও অনলাইন কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফিশিং বা সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং হামলা প্রতিরোধে সচেতনতাই প্রথম প্রতিরক্ষা।
জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সির শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক হ্যাকার গ্রুপ ও ম্যালওয়্যার আক্রমণ থেকে জাতীয় ডিজিটাল সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকি করা হচ্ছে। যেকোনো অস্বাভাবিক ট্রাফিক প্যাটার্ন বা সন্দেহজনক অনুপ্রবেশের চেষ্টা শনাক্ত করতে বিশেষ এআই-চালিত অ্যালগরিদম সক্রিয় রাখা হয়েছে। কোনো সংস্থায় নিরাপত্তা ত্রুটি বা অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটলে তা অনতিবিলম্বে এনসিএসএর কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিমকে (সার্ট) অবহিত করার কড়া নির্দেশ রয়েছে। সাইবার বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে হলে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ডিজিটাল সুরক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। জাতীয় ডেটা সুরক্ষার আধুনিকায়ন দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকেও সুরক্ষিত রাখবে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও সফটওয়্যার প্রকৌশলীরা সরকারের এই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও জরুরি বলে অভিহিত করেছেন। তারা বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার যাত্রায় ডেটা প্রাইভেসি ও সাইবার নিরাপত্তাই হলো মূল ভিত্তিপ্রস্তর। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাইবার সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারলে দেশকে আধুনিক ডিজিটাল নিরাপত্তার নির্ভরযোগ্য স্তরে উন্নীত করা সম্ভব হবে। সাইবার সুরক্ষা বিশেষজ্ঞরা আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে, নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদ, সুরক্ষিত ব্যাকআপ সংরক্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে দক্ষ সাইবার রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা গেলে যেকোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত সাইবার বিপর্যয় সফলভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি সেল থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, ডিজিটাল অবকাঠামো সুরক্ষায় কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না এবং নিয়মিত ফরেনসিক অডিটের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে।
হাইলাইটস:
- সকল সরকারি পোর্টাল ও ব্যাংকিং সার্ভারে মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বাধ্যতামূলক।
- গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোতে (সিআইআই) ২৪/৭ ডিজিটাল ফরেনসিক মনিটরিং।
- সাইবার হামলা ও তথ্য ফাঁস রোধে সমন্বিত জাতীয় ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন।