নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের হয়রানি, চরম ভোগান্তি এবং বিশাল অঙ্কের আর্থিক অপচয় চিরতরে বন্ধ করতে একটি অভিন্ন ও স্থায়ী সমন্বিত (গুচ্ছ) ভর্তি পরীক্ষা প্রথা চালুর লক্ষ্যে নতুন অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এই আইনি রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছ ও দ্রুততম সময়ে শিক্ষার্থী ভর্তি নিশ্চিত করাই এই জাতীয় উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
খসড়া অধ্যাদেশের মূল ধারায় বলা হয়েছে, দেশের সকল সাধারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি একক জাতীয় ভর্তি কাঠামোর আওতায় অন্তর্ভুক্ত হতে হবে। প্রতি বছর নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার জন্য একটি করে একক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্ত স্কোরের ভিত্তিতে ঘরে বসেই অনলাইনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে পছন্দক্রম অনুযায়ী আবেদন করতে পারবেন। কেন্দ্রীয় অটোমেশন প্রক্রিয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেধা ও পছন্দের ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ দেওয়া হবে। ইউজিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা আরও স্পষ্ট করেছেন যে, এই অভিন্ন ভর্তি ব্যবস্থা বাস্তবায়নে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের সাথে ধারাবাহিক মতবিনিময় করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন করাই এই আইনি সংস্কারের মূল ভিত্তি।
ইউজিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, অতীতে সমন্বিত ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে কিছু বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সরে দাঁড়ানোর প্রবণতা শিক্ষার্থীদের চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের মুখে ফেলেছিল। নতুন এই অধ্যাদেশ জারি হলে কোনো প্রতিষ্ঠান নিজস্ব খেয়ালখুশিমতো এককভাবে আলাদা পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে ফেলতে পারবে্বা। এছাড়া ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং দরিদ্র ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তির বিধান রাখা হয়েছে। অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, ডিজিটাল পদ্ধতির আধুনিকায়ন এবং কেন্দ্রীভূত মেরিট তালিকার সফল বাস্তবায়ন হলে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও হয়রানি চিরতরে দূর হবে। এর ফলে তৃণমূলের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা সমান সুযোগ পেয়ে উপকৃত হবে।
শিক্ষা গবেষক ও অভিভাবক ঐক্য ফোরামের প্রতিনিধিরা ইউজিসির এই চূড়ান্ত পদক্ষেপকে সর্বান্তকরণে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে দেশের প্রান্তিক পরিবারের শিক্ষার্থীদের যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সময় ব্যয় হতো, এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন হলে তা অনেকাংশেই সাশ্রয় হবে। উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও আধুনিকতা ফিরিয়ে আনতে এই অধ্যাদেশ দ্রুততম সময়ে কার্যকর করার দাবি জানান তারা। দেশের শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা মনে করছেন, যুগোপযোগী এই অধ্যাদেশটি কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষার নামে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ হবে এবং প্রকৃত মেধাবীদের জন্য উচ্চশিক্ষার পথ আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্মুক্ত ও সুগম হবে।
হাইলাইটস:
- সকল সাধারণ ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষার স্থায়ী আইনি কাঠামো।
- শিক্ষার্থীদের আর্থিক অপচয় ও দীর্ঘ ভ্রমণজনিত শারীরিক দুর্ভোগ লাঘবের অঙ্গীকার।
- স্বচ্ছ মেধা তালিকা ও কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কাউন্সিলিং পদ্ধতির মাধ্যমে আসন বরাদ্দ।