বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘন ঘন তীব্র সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় ও প্রলয়ংকরী জলোচ্ছ্বাসের মারাত্মক আঘাত থেকে দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জনপদকে রক্ষা করতে নতুন জেগে ওঠা চরগুলোতে ব্যাপক পরিসরে ম্যানগ্রোভ বনায়ন ও সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার উপকূলীয় বন বিভাগ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এক যৌথ নীতি নির্ধারণী সভায় পটুয়াখালী, ভোলা, বরগুনা ও নোয়াখালী জেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করা হয়। প্রাকৃতিক এই প্রতিরক্ষা প্রাচীর উপকূলীয় মাটির ক্ষয়রোধেও বড় ভূমিকা রাখবে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নতুন জেগে ওঠা পলিময় চরে প্রথম ধাপে গভীর শিকড়যুক্ত লবণাক্ততা সহনশীল কেওড়া, বাইন, গেওয়া ও গোলপাতা জাতীয় ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের চারা রোপণ করা হচ্ছে। এই শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল জোয়ারের তীব্র স্রোত ও ঢেউয়ের গতিবেগ বহুলাংশে কমিয়ে দেয়, যার ফলে চরের ভাঙন রোধ হয় এবং আশপাশের মাটির স্থায়ী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়। আগামী দুই বছরের মধ্যে অন্তত দশ হাজার হেক্টর নতুন উপকূলীয় ভূমিতে এই নিবিড় সবুজ বলয় গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পে স্থানীয় চরাঞ্চলের ভূমিহীন বাসিন্দা ও জেলে পরিবারগুলোকে সরাসরি বন পাহারা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়ে ‘সামাজিক বনায়ন অংশীদারিত্ব’ চুক্তি করা হচ্ছে। এর ফলে বনের গাছ কাটার ক্ষতিকর প্রবণতা বন্ধ হবে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী কাঠহীন বনজ সম্পদ, মধু ও কাঁকড়া সংগ্রহ করে বিকল্প জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাবে। চরে গবাদিপশু চড়ানোর নামে যাতে নতুন চারার কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য কমিউনিটি ভিত্তিক বিশেষ স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করা হয়েছে।
জলবায়ু ও পরিবেশ গবেষকরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে ইট-পাথরের কৃত্রিম বাঁধের চেয়ে বহুগুণ বেশি টেকসই ও শক্তিশালী হলো উপকূলের জীবন্ত ম্যানগ্রোভ বন। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সুরক্ষা প্রাচীর যেভাবে বারবার উপকূলবাসীকে মহাদুর্যোগ থেকে রক্ষা করেছে, একইভাবে বঙ্গোপসাগরের সমগ্র উপকূল জুড়ে এই ধারাবাহিক সবুজ বেষ্টনী কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর
হাইলাইটস:
- পটুয়াখালী, বরগুনা ও নোয়াখালীর নতুন জেগে ওঠা চরে দ্রুত বর্ধনশীল কেওড়া ও বাইন রোপণ。
- সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস প্রতিরোধে উপকূলীয় সীমানা প্রাচীর হিসেবে প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা বলয়。
- স্থানীয় জেলে ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক বনায়ন মডেল বাস্তবায়ন。