Home » কৃষিঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোকে এলাকাভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

কৃষিঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোকে এলাকাভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

কর্তৃক Towkir Hasan
০ মন্তব্য

দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থপ্রবাহ সক্রিয় রাখার উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য অঞ্চল ও শস্যভিত্তিক সমন্বিত কৃষিঋণ বিতরণের নতুন দিকনির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ থেকে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে পাঠানো এক নির্দেশনায় এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। চলতি মৌসুমে কোনো যোগ্য কৃষক যেন প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের অভাবে জমি অনাবাদি না রাখেন, তা নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোকে কেবল বিভাগীয় শহর বা অনুকূল জেলাগুলোতে ঋণ বিতরণ সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; বরং হাওরাঞ্চল, দক্ষিণের উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকা এবং উত্তরের চরাঞ্চলে নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী অর্থ ছাড় করতে হবে। বিশেষ করে ডাল, তেলবীজ, মসলা ও পেঁয়াজের মতো আমদানি বিকল্প ফসলের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের মাত্র চার শতাংশ রেয়াতি সুদে বিশেষ কৃষিঋণ বিতরণের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অতিরিক্ত জামানত ছাড়া কেবল জাতীয় পরিচয়পত্র ও কৃষি কার্ডের ভিত্তিতে ঋণ প্রদান করতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর কৃষিঋণের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলেও অনেক বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংক তৃণমূল শাখায় সরাসরি ঋণ না দিয়ে এনজিওদের মাধ্যমে বিতরণ করে, যার ফলে কৃষকদের ওপর সুদের অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এই মধ্যস্থতাকারী নির্ভরতা কমাতে ব্যাংকগুলোকে নিজস্ব শাখা এবং উপশাখার মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। যেসকল ব্যাংক তৃণমূল পর্যায়ে সরাসরি ঋণ বিতরণে অবহেলা করবে, তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা সীমিত করা হবে।

কৃষি অর্থনীতিবিদরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বৈরী প্রভাবে যখন কৃষকের উৎপাদন খরচ দিন দিন বাড়ছে, তখন সুলভ সুদে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণই তাদের প্রধান রক্ষাকবচ। আমদানি বিকল্প শস্য উৎপাদনে কম সুদের এই অর্থায়ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমাতে এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তথ্যসূত্র: কৃষি মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)

হাইলাইটস:

  • চরাঞ্চল, হাওর ও উপকূলীয় খরাপ্রবণ অঞ্চলের কৃষকদের জন্য বিশেষ কৃষিঋণ বরাদ্দ。
  • কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া সরাসরি কৃষকের ব্যাংক একাউন্টে সহজ শর্তে মূলধন স্থানান্তর。
  • ডাল, তৈলবীজ ও মসলা জাতীয় আমদানি বিকল্প ফসল চাষে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদে ঋণ。

আপনার আরও পছন্দ হতে পারে

একটি মন্তব্য করুন