অনুকূল আবহাওয়া, পরিমিত বৃষ্টিপাত এবং যথাসময়ে মানসম্মত বীজ ও সার সহায়তার ফলে চলতি মৌসুমে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬টি জেলায় রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু হতেই কৃষকের মুখে চওড়া হাসি ফুটে উঠেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ফসলের প্রাথমিক মাঠ মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে খরা বা বড় ধরনের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা না থাকায় এবং পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকায় হেক্টরপ্রতি ফলন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে আধুনিক উচ্চফলনশীল ব্রি-ধান ও বিনা জাতের আবাদ বাড়ায় কৃষকরা কম খরচে বিঘাপ্রতি প্রত্যাশার চেয়ে ৩ থেকে ৪ মণ বেশি ধান ঘরে তুলতে পারছেন।
কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার মূল স্তম্ভ হলো আমন ও বোরো ফসল। আন্তর্জাতিক বাজারে চালের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে উত্তরাঞ্চলের এই বাম্পার ফলন দেশের অভ্যন্তরীণ চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিশাল ভূমিকা রাখবে। তবে কৃষকরা যাতে চাতাল ও ফড়িয়াদের সিন্ডিকেটের কবলে বায় না পড়েন, সেজন্য সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে দ্রুত সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্যে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
ডিএই জানিয়েছে, কৃষকদের ধান কাটার আধুনিক কম্বাইন্ড হারভেস্টার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে দুর্যোগের ঝুঁকি ছাড়াই দ্রুত ধান ঘরে তোলা সম্ভব হয়। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে মাড়াই উৎসব শুরু হবে।
হাইলাইটস:
- রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬ জেলায় চলতি মৌসুমে রোপা আমনের রেকর্ড ফলন।
- অনুকূল আবহাওয়া ও যথাসময়ে সরকারি সার-বীজ প্রণোদনায় হেক্টরপ্রতি উৎপাদন বৃদ্ধি।
- চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার প্রস্তুতি খাদ্য বিভাগের।