জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আর্কটিক বা উত্তর মহাসাগরের বরফ আশঙ্কাজনক হারে গলে যাওয়ার ফলে ইউরোপ থেকে এশিয়ায় যাওয়ার সংক্ষিপ্ততম নর্দার্ন সি রুট এখন প্রায় বছরজুড়ে জাহাজ চলাচলের উপযোগী হয়ে উঠছে। প্রথাগত সুয়েজ খাল পথের তুলনায় এই পথে সমুদ্রযাত্রার দূরত্ব প্রায় ৪০ শতাংশ এবং সময় অন্তত দুই সপ্তাহ কমে যায়। এই নতুন জলপথকে কেন্দ্র করে বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে ভূ-রাজনৈতিক রেষারেষি।
উত্তরাঞ্চলের বরফমুক্ত মহাসাগরের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের অনুকূলে রাখতে পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন বরফভাঙা জাহাজ (আইসব্রেকার) বহর ও নজরদারি ফাঁড়ি জোরদার করেছে রাশিয়া। অন্যদিকে ন্যাটো মিত্রজোট নরওয়ে ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে সামরিক টহল এবং মহড়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়ে দিয়েছে। আর্কটিকের বিশাল প্রাকৃতিক তেল ও গ্যাসের মজুত আহরণেও এগিয়ে আসছে বিশ্বশক্তিগুলো।
পরিবেশ বিজ্ঞানীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের অতিরিক্ত চলাচল সেখানকার স্পর্শকাতর মেরু বাস্তুতন্ত্রকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করতে পারে। তারা একটি আন্তর্জাতিক সুরক্ষা চুক্তির দাবি জানিয়েছেন যাতে সামরিকায়নের পরিবর্তে আর্কটিককে শান্তিপূর্ণ গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে সংরক্ষণ করা যায়।
হাইলাইটস:
- আর্কটিকের বরফ গলে ইউরোপ-এশিয়ার সংক্ষিপ্ত বাণিজ্য পথ উন্মুক্ত হওয়ার মুখে।
- সুয়েজ খালের চেয়ে ৪০ শতাংশ পথ কম হওয়ায় বাণিজ্যিক জাহাজের ভিড় বাড়ছে।
- মেরু অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরাশক্তিদের প্রতিযোগিতা।