নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: সরকারি দফতর ও মন্ত্রণালয়গুলোর নাগরিক সেবাদান কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং অনাবশ্যক কালক্ষেপণ রোধে একটি নতুন সমন্বিত নির্দেশিকা জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে এই নির্দেশিকা চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করা হয়। নতুন এই কাঠামোর আওতায় প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে তাদের বিদ্যমান সেবাগুলোকে ক্রমান্বয়ে শতভাগ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করতে হবে এবং সেবাগ্রহীতাদের যেকোনো অভিযোগের নিষ্পত্তির অগ্রগতি সার্বক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি দফতরে নাগরিকের বৈধ আবেদন বা ফাইল যৌক্তিক কারণ ছাড়া তিন দিনের বেশি আটকে রাখা যাবে না। সেবা প্রক্রিয়াকরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অন্যায্য বিলম্বের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট শাখা প্রধানকে তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা দিতে হবে। নাগরিকদের সরাসরি মতামত ও অভিযোগ জানানোর জন্য প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কেন্দ্রীয় গণঅভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস) আরও সক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাগুজে ফাইলের জটিলতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য দূর করতে এই ডিজিটাল রূপরেখা কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সরকারি কর্মকর্তারা সময়মতো সেবা প্রদানে বাধ্য থাকলে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের হয়রানি অনেকটাই লাঘব হবে। সরকার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রতিটি বিভাগকে এই নির্দেশনা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে কঠোর তাগিদ দিয়েছে প্রশাসন।
হাইলাইটস:
- সরকারি সেবায় নাগরিক ভোগান্তি ও ফাইল আটকে রাখা রোধে কঠোর নজরদারি।
- সব মন্ত্রণালয়ের সেবাপ্রদান প্রক্রিয়া কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আসছে।
- নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি না হলে কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।