বর্ষা মৌসুম পরবর্তী ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে ঢাকাসহ সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ মশক নিধন অভিযান এবং চিকিৎসা প্রস্তুতি কর্মসূচি চালু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক জরুরি জাতীয় সমন্বয় সভায় এই বিশেষ কর্মপরিকল্পনার ঘোষণা দেওয়া হয়। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মীদের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক লার্ভা শনাক্তকরণ ও ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালনার জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে সভায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত শয্যা ও প্রয়োজনীয় স্যালাইন মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো রোগীকে যাতে চিকিৎসার অভাবে ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সেজন্য প্রতিটি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা ডেডিকেটেড ডেঙ্গু কর্নার সক্রিয় থাকবে। একই সঙ্গে এনএস-১ অ্যান্টিজেন ও অন্যান্য রোগ নির্ণয় পরীক্ষা সরকারিভাবে বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে প্রদানের নির্দেশনা বহাল রয়েছে।
কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার বিস্তার এখনো ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে কেবল সরকারি অভিযানের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় নাগরিকদের নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও ছাদবাগান নিয়মিত পরিষ্কার রাখা আবশ্যক। নাগরিক সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গুর প্রকোপ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব।
এদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে হটস্পট এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত ফগিং ও লার্ভিসাইড স্প্রে করার সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। সাধারণ রোগীদের সচেতন করতে দেশব্যাপী মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
হাইলাইটস:
- বর্ষাপরবর্তী ডেঙ্গুর ঝুঁকি রোধে সারা দেশে বিশেষ মশক নিধন অভিযান ঘোষণা।
- সব হাসপাতালে ডেডিকেটেড ডেঙ্গু কর্নার ও পর্যাপ্ত স্যালাইন মজুতের কড়া নির্দেশনা।
- হটস্পট এলাকায় অতিরিক্ত ফগিং ও ওয়ার্ডভিত্তিক লার্ভা ধ্বংসে যৌথ টিম গঠনের সিদ্ধান্ত।