উত্তর জনপদের লালমনিরহাট সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই ভারতীয় নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরে ফেলে রেখে যায় বিএসএফের সদস্যরা। পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেন। বর্তমানে তাঁরা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আজ সোমবার বিকেলে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজিবি। একই সঙ্গে বিএসএফের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের নিন্দা জানানো হয়েছে।
হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আহত দুই ব্যক্তি ভারতের কোচবিহার জেলার বাসিন্দা। ভোররাতে সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে টহলরত বিএসএফ সদস্যরা খুব কাছ থেকে গুলি ছোড়ে। গুলিতে তাঁদের শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতবিক্ষত হয়। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে তাঁদের বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে বিজিবির একটি বিশেষ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। বিজিবির গাড়িতে করেই তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহত দুজনের শরীর থেকে একাধিক গুলির স্প্লিন্টার অপসারণ করা হয়েছে। তাঁদের অবস্থা এখনো পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নয়। রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ওই দুই ভারতীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। হাসপাতাল এলাকায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তা মোতায়েন রাখা হয়েছে। সুস্থ হলে তাঁদের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সীমান্তে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত গুলির ঘটনায় স্থানীয় সীমান্তবাসীর মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিজিবি সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়ন থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে জরুরি পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। সীমান্ত বিশ্লেষকেরা বলছেন, নিজের দেশের নাগরিকদের গুলি করে প্রতিবেশী দেশে ফেলে যাওয়া চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। এটি দ্বিপাক্ষিক সীমান্ত নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন।
কূটনৈতিক ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তে যে কোনো ধরনের গোলাগুলি বন্ধে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অথচ মাঠপর্যায়ে বিএসএফের এমন মারমুখী আচরণ থামছে না। বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পতাকা বৈঠকে এই ঘটনার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও কঠোর করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কূটনৈতিক চ্যানেলেও কড়া প্রতিবাদলিপি পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
হাইলাইটস:
- লালমনিরহাট সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় বিএসএফের গুলিতে দুই ভারতীয় নাগরিক গুরুতর আহত।
- গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁদের বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ফেলে যায় বিএসএফ, উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি।
- অনুপ্রবেশের অভিযোগে রংপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের, পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি।