Home » বন্ধ সব স্কুল

বন্ধ সব স্কুল

কর্তৃক Towkir Hasan
০ মন্তব্য
বন্ধ সব স্কুল

লাখো শিক্ষার্থীর ক্লাস অনিশ্চিত করে লিবিয়াজুড়ে শুরু হয়েছে শিক্ষকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট। বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও শিক্ষা খাতের সংস্কার না হলে ক্লাসে ফিরবেন না শিক্ষকেরা। সংকট তীব্র হওয়ায় দেশটিতে নতুন শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম পুরোপুরি থমকে গেছে। তালাবদ্ধ হয়ে খালি পড়ে আছে হাজার হাজার শ্রেণিকক্ষ।

শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতনের দাবি জানিয়ে আসছেন। স্থানীয় মুদ্রার তীব্র দরপতনের কারণে নিত্যপণ্যের দাম এখন আকাশছোঁয়া। আগের বেতনে সংসার চালানো সাধারণ শিক্ষকদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শিক্ষক ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বারবার ভঙ্গ করা হয়েছে। তাদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা। পাশাপাশি জরাজীর্ণ স্কুল ভবনগুলোর জরুরি সংস্কারের দাবিও তোলা হয়েছে।

এই ধর্মঘটের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে দেশটির আরও কয়েকটি প্রভাবশালী পেশাজীবী সংগঠন। তেল ও পরিবহন খাতের ইউনিয়নগুলোও ইতিমধ্যে রাজপথে নামার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে লিবিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয় (Ministry of Education) জরুরি সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছে। তবে শিক্ষক নেতারা কোনো মৌখিক প্রতিশ্রুতি মানতে নারাজ।

বহু বছরের রাজনৈতিক সংঘাত লিবিয়ার সামাজিক কাঠামোকে আগেই ধ্বংসের মুখে ফেলেছে। এর মধ্যে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ পরিবারের অভিভাবকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষা জীবন নিয়ে তাদের উদ্বেগ বাড়ছে। মাসের পর মাস পড়াশোনা বন্ধ থাকলে তৈরি হবে বড় ধরনের শিখন ঘাটতি। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার শিশুরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

শিক্ষক নেতারা সাফ জানিয়েছেন, লিখিত কার্যকর বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো ক্লাসে ফেরা হবে না। সরকার দ্রুত সম্মানজনক চুক্তিতে না পৌঁছালে লিবিয়াজুড়ে সামগ্রিক অচলাবস্থা তৈরি হবে। রাজধানী ত্রিপোলিসহ বড় শহরগুলোতে যেকোনো মুহূর্তে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে পারে। শিক্ষাব্যবস্থার এই গভীর সংকট কাটাতে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের হাতে সময় ফুরিয়ে আসছে।

হাইলাইটস:

  • লিবিয়াজুড়ে শিক্ষকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস সম্পূর্ণ স্থগিত।
  • মুদ্রাস্ফীতির মুখে বকেয়া বেতন ও উন্নত স্বাস্থ্যবিমার দাবিতে অটল কয়েক লাখ শিক্ষক।
  • সমাধান না হলে তেল ও পরিবহন খাতের অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনও ধর্মঘটের ডাক দেবে।

আপনার আরও পছন্দ হতে পারে

একটি মন্তব্য করুন