ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় যুদ্ধবিধ্বস্ত তিগ্রাই প্রদেশের প্রধান রাজধানী মেকেলে পুনর্দখল করে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক দাবি করেছে দেশটির ফেডারেল সরকার। বিদ্রোহী বাহিনী শহরটি ছেড়ে কৌশলগত পশ্চাদপসরণ করার পর জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী সেখানে কোনো বড় ধরনের বাধা ছাড়াই প্রবেশ করে। ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ এক বিশেষ বার্তায় এই ঘটনাকে শান্তি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান যে সরকারি বাহিনী এখন মেকেলে শহরের বিমানবন্দর, সরকারি কার্যালয় এবং কৌশলগত সব স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। সাধারণ জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন।
তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) মুখপাত্র এক অডিও বার্তায় জানিয়েছেন যে বেসামরিক প্রাণহানি এড়াতেই তারা শহর থেকে যোদ্ধাদের সরিয়ে নিয়েছেন। ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকায় কামান ও বিমান হামলা হলে হাজার হাজার নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটত বলে তারা দাবি করেন। তবে শহরের বাইরে পাহাড়ি অঞ্চলে তাদের প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে বলে তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। ফলে মেকেলে নগরী সরকারের নিয়ন্ত্রণে এলেও প্রদেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়েছে তা বলা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে এখনো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
আফ্রিকা ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ অবিলম্বে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সংকটের স্থায়ী সমাধানের তাগিদ দিয়েছে। ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলের এই দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের কারণে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং খাদ্য সংকটে পড়েছে। শহরটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসার পর মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ উন্মুক্ত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ত্রাণকর্মীরা। জাতিসংঘ জানিয়েছে যে বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি এবং ইন্টারনেট সংযোগ অবিলম্বে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জরুরি। শিশুদের অপুষ্টি এবং মহামারির ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী গাড়িবহর প্রবেশ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ইথিওপিয়ার সরকারি সামরিক কমান্ড জানিয়েছে যে মেকেলে শহরে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড বা লুটপাট বরদাশত করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেসামরিক পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তাদের দ্রুত কাজে যোগ দিয়ে নাগরিক সেবা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে বন্ধ থাকা হাসপাতাল এবং জরুরি সেবাকেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফেডারেল সরকার যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের জন্য একটি বিশেষ আর্থিক তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে।
হর্ন অব আফ্রিকার সার্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ইথিওপিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং রাজনৈতিক শান্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক শক্তিগুলো আশা প্রকাশ করেছে যে এই অগ্রগতির মধ্য দিয়ে আফ্রিকান ইউনিয়নের নেতৃত্বে একটি ফলপ্রসূ শান্তিচুক্তির দ্বার উন্মোচিত হবে। দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর শান্তি ফিরে আসুক এটাই স্থানীয় সাধারণ মানুষের একমাত্র আন্তরিক চাওয়া। আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক মহলের নজর থাকবে কীভাবে এই অঞ্চলটিতে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন ও আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
হাইলাইটস:
- ইথিওপিয়ার যুদ্ধবিধ্বস্ত তিগ্রাই অঞ্চলের রাজধানী মেকেলে সরকারি প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।
- বেসামরিক মানুষের জীবন বাঁচাতে শহর ছেড়ে বাইরে সরে যাওয়ার দাবি করেছে বিদ্রোহী টিপিএলএফ নেতৃত্ব।
- বিদ্যুৎ ও মানবিক ত্রাণ পৌঁছানোর পথ উন্মুক্ত করতে জাতিসংঘ ও আফ্রিকা ইউনিয়নের জরুরি আহ্বান।