রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শারজাহ থেকে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে আনুমানিক ১০ কোটি টাকা মূল্যের ৮০টি সোনার বার জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় যৌথ তল্লাশিতে এসব সোনা উদ্ধার করা হয়। চোরাচালানের অভিযোগে যাত্রী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে (৩৮) আটক করা হয়েছে。
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক রুটের ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ চোরাচালান করা হচ্ছে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বোর্ডিং ব্রিজ ও আগমনী লাউঞ্জে নজরদারি জোরদার করা হয়। ফ্লাইটটি অবতরণের পর সন্দেহভাজন যাত্রী জসিম উদ্দিন ব্যাগেজ সংগ্রহ করে কাস্টমস স্ক্যানিং এলাকা পার হওয়ার সময় তাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। পরবর্তীতে কাস্টমস ব্যাগেজ কাউন্টারে নিয়ে তার সঙ্গে থাকা ট্রলি ব্যাগ এবং কোমরে বিশেষভাবে তৈরি কাপড়ের বেল্টের ভেতরে লুকানো অবস্থায় ৯ কেজি ২৮০ গ্রাম ওজনের ৮০টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়。
বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক যাত্রী স্বীকার করেছেন যে তিনি আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের বাহক হিসেবে অর্থের বিনিময়ে এই স্বর্ণ ঢাকায় এনেছিলেন। জব্দকৃত সোনার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। উদ্ধার হওয়া সব সোনার বার তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা কাস্টম হাউসের গুদামে সরকারি হেফাজতে জমা দেওয়া হয়েছে。
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে রাজস্ব আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বিমানবন্দর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আটক আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করে চোরাচালান সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের শনাক্ত করতে আদালতের কাছে রিমান্ড চাওয়া হবে。
হাইলাইটস:
- শাহজালাল বিমানবন্দরে শারজাহফেরত যাত্রীর কাছ থেকে ৯.২৮ কেজি ওজনের ৮০টি সোনার বার উদ্ধার।
- কাপড়ের বেল্টে লুকিয়ে আনা প্রায় ১০ কোটি টাকার সোনা জব্দ করল কাস্টমস গোয়েন্দা ও এপিবিএন।
- আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাচালান মামলা দায়ের।