বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) তাদের অধীন ইপিজেডগুলোতে সীমিত জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতি একর শিল্প জমিতে গড়ে প্রায় ৩০ লাখ মার্কিন ডলার (৩ মিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে। এর ফলে প্রতিটি একর জমি থেকে বছরে গড়ে ১৩ কোটি ৮২ লাখ টাকার অর্থনৈতিক রিটার্ন অর্জিত হচ্ছে। চট্টগ্রামে আয়োজিত ‘মিট দ্য ইনভেস্টরস’ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, বৈশ্বিক বাণিজ্য অনিশ্চয়তা, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দেশের ইপিজেডগুলোর বিনিয়োগকারীরা অভাবনীয় সক্ষমতা প্রদর্শন করেছেন। পোশাক, জুতা, গহনা, চশমা, নিরাপত্তা সামগ্রী ও ব্রাইডাল ওয়্যারসহ বৈচিত্র্যময় পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হচ্ছে। এছাড়া বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-১, অর্থনৈতিক অঞ্চল-২, যশোর ইপিজেড এবং পটুয়াখালী ইপিজেডকে পূর্ণাঙ্গ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করায় শিল্প সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
বেপজার বিনিয়োগ উন্নয়ন অনুবিভাগ জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৬টি নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং ইপিজেডগুলো থেকে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৮.৪১ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২.২২ শতাংশ বেশি। বিনিয়োগকারীদের সেবা সহজ করতে বেপজা ৪৫টি অনলাইন সেবা ও ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন (১৬১২৮) চালু করেছে। বর্তমানে দেশের ৮টি ইপিজেড ও দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৩৮টি দেশের মোট ৭.৫০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ এবং মোট বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের (এফডিআই) ১৯.১৭ শতাংশ।
হাইলাইটস:
- প্রতি একর জমিতে ৩০ লাখ ডলার বিনিয়োগ ও বছরে ১৩.৮২ কোটি টাকার রিটার্ন অর্জিত।
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৬টি নতুন চুক্তি ও ৮.৪১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি।
- দেশের মোট রপ্তানির ২০ শতাংশ ও এফডিআই’র ১৯.১৭ শতাংশ অবদান রাখছে বেপজা।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়