মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমাগত যুদ্ধ বিস্তার এবং রাশিয়ার প্রধান প্রধান তেল শোধনাগারে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় গভীর সংকট তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য এক লাফে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছেছে, যা বিগত মে মাসের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সর্বোচ্চ দর। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মাঝে জ্বালানি তেলের এই লাগামহীন উল্লম্ফন আমদানি-নির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে নতুন করে মারাত্মক ধাক্কা দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগর দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটে পরিবহন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এছাড়া ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে পরিশোধিত ডিজেল সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রশাসন জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাশিয়ার ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিল করলেও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মুখে তেলের বাজারে ক্রেতাদের আতঙ্ক কমছোসহ।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ১০০ ডলার অতিক্রম করে ১১০ ডলারে স্থিতিশীল থাকলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতির ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হবে। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন খাত এবং কৃষি সেচ মৌসুমে ডিজেলের ব্যাপক চাহিদার কারণে আমদানি ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হবে, যা জাতীয় রিজার্ভ ও সার্বিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে জরুরি মজুত বাড়ানো এবং জ্বালানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অর্থ মন্ত্রণালয়
হাইলাইটস:
- মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দর ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে।
- মে মাসের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধি, ট্যাংকার পরিবহন ব্যয়ে বড় উল্লম্ফন।
- আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে আমদানি-নির্ভর উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে বাড়ছে চাপ।