গাজাগামী আন্তর্জাতিক সংহতি ও মানবিক ত্রাণবাহী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র মানবাধিকার কর্মীদের অবৈধভাবে আটক, নির্যাতন ও শারীরিক নিপীড়নের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এবং ১২ জন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছেন ইতালির সরকারি কৌঁসুলিরা।
আন্তর্জাতিক জলসীমায় ফ্লোটিলায় হামলা ও ৫০ ইতালীয়র অভিযোগ
রোমের পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, ২০২৩ ও ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক জলসীমায় সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্য ও ওষুধবাহী নিরস্ত্র জাহাজে হামলা চালায় ইসরায়েলি নৌবাহিনী। হামলায় অংশ নেওয়া ৫০ জন ইতালীয় নাগরিকের আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ভিত্তিতে নির্যাতন, অপহরণ, শারীরিক আঘাত ও অবৈধভাবে ব্যক্তিগত সম্পত্তি লুটের অভিযোগে এই মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। রোমের প্রসিকিউটরদের দায়ের করা চার্জশিটের প্রাথমিক তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় সাধারণ ত্রাণবাহী নৌযানে রাতের আঁধারে স্টান গ্রেনেড ও তাজা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল ইসরায়েলি স্পেশাল ফোর্স। এরপর নিরীহ কর্মীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা খাবার ও পানি ছাড়া আটকে রেখে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়, যা জেনেভা কনভেনশনের গুরুতর লঙ্ঘন।
তদন্ত তালিকায় ইসরায়েলের বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ছাড়াও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল ইয়াল জামির এবং চরমপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভীরের নাম রয়েছে। আটক কর্মীদের ওপর অশদোদ বন্দরে নির্মম নির্যাতন ও চোখ বেঁধে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখার অকাট্য ভিডিও প্রমাণ কৌঁসুলিদের হাতে এসেছে।
ইউরোজেস্টের মাধ্যমে ইউরোপব্যাপী আইনি তৎপরতা
ইতালির দণ্ডবিধি অনুসারে দেশের নাগরিকদের ওপর আন্তর্জাতিক জলসীমায় সংঘটিত গুরুতর অপরাধের বিচার রোমের আদালতে করার সুস্পষ্ট আইনি এখতিয়ার রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিচারিক সহযোগিতা সংস্থা ইউরোজেস্টের মাধ্যমে অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের কৌঁসুলিদের সাথেও সমন্বয় করা হচ্ছে যাতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা যায়। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি)-এর পাশাপাশি কোনো সার্বভৌম দেশের নিজস্ব বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা করা বৈশ্বিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক নজির স্থাপন করেছে। রোমের আদালতের এই তদন্তের অগ্রগতি আন্তর্জাতিক কূটনীতিক অঙ্গনেও ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো রোম আদালতের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করতে যেকোনো যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াকে কার্যকর করা মানবতার অস্তিত্বের জন্যই অপরিহার্য। ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আশা করছে যে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
হাইলাইটস:
- গাজাগামী ত্রাণবাহী ফ্লোটিলায় নির্যাতনের দায়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজের বিরুদ্ধে মামলা।
- আন্তর্জাতিক জলসীমায় ৫০ ইতালীয় নাগরিকের ওপর নির্যাতন ও অপহরণের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু।
- ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি।
তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্র ও জাতিসংঘ দপ্তর