সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্মানজনক ‘হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন। ওয়াশিংটন ডিসির বিশ্বখ্যাত জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিনেটর হিলারি ক্লিনটন আনুষ্ঠানিকভাবে ড. ইউনূসের হাতে এই সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা, নারীর আত্মমর্যাদা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে দারিদ্র্য বিমোচনে দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে অনন্য সাধারণ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব প্রদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত করা হয়。
চলতি বছর বিশ্বখ্যাত এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত মোট চারজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। ড. ইউনূস ছাড়াও অন্য তিনজন সম্মাননা প্রাপক হলেন ভারতের স্বনামধন্য আত্মকর্মসংস্থানকারী নারী অ্যাসোসিয়েশনের (সেবা) নির্বাহী পরিচালক রীমা নানাবতী, আন্তর্জাতিক ফ্যাশন উদ্যোক্তা ও টরি বার্চ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা টরি বার্চ এবং জর্ডানের শীর্ষ ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা মাইক্রোফান্ড ফর উইমেনের বোর্ড চেয়ার মুনা সুখতিয়ান। মুনা সুখতিয়ান একই সাথে নারী উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছর মর্যাদাপূর্ণ ‘জর্জটাউন অ্যাম্বাসেডরস অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন。
পুরস্কার গ্রহণের পর জর্জটাউনের মিলনায়তনে সমবেত বিশিষ্ট সুধীজনদের উদ্দেশ্যে দেওয়া আবেগঘন বক্তব্যে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক অর্জন মূলত আমাদের বিগত ৫০ বছরের নিরবচ্ছিন্ন ও কঠিন তৃণমূল কাজের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি। বিশ্ব দরবারে এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের সংগ্রামী ও আত্মপ্রত্যয়ী গ্রামীণ নারীদের সম্মানিত করেছে। ওয়াশিংটনের এই ঐতিহাসিক আয়োজন বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গভীর ইতিবাচক ও শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দেবে এবং গ্রামীণ পরিবারের কোটি সদস্যকে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলা করে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।”
অনুষ্ঠানে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ড. ইউনূসের ক্ষুদ্রঋণ দর্শনের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, চরম দারিদ্র্য থেকে মানুষের মুক্তির জন্য প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে জামানতবিহীন ঋণ প্রদানের যে বিপ্লব তিনি সূচনা করেছিলেন, তা গোটা বিশ্বের প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রাকে বদলে দিয়েছে। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, বিদেশি কূটনীতিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন。
হাইলাইটস:
- সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের হাত থেকে জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মাননা গ্রহণ ড. ইউনূসের।
- বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে বিগত ৫০ বছরের ঐতিহাসিক কাজের স্বীকৃতি।
- ভারত ও জর্ডানের শীর্ষ নারী সংগঠকসহ চলতি বছর মোট চারজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এই পুরস্কার লাভ করেন।
তথ্যসূত্র: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর