যানবাহনের নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন ও যত্রতত্র অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানোর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নাগরিকদের শ্রবণশক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশব্যাপী ১ লাখ ৩৯ হাজার গণপরিবহন চালককে বিশেষ কারিগরি ও সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত প্রকল্পের আওতায় এই বৃহৎ কর্মসূচি সম্পন্ন হলো।
হাইড্রোলিক হর্নে বধিরতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সচিত্র ব্রিফিং
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রাজধানী ঢাকাসহ প্রতিটি বিভাগীয় শহরে বাস, ট্রাক, অটোরিকশা ও কাভার্ডভ্যানের চালকদের শব্দদূষণের ভয়াবহতা বোঝাতে চিকিৎসকদের মাধ্যমে সরাসরি কান ও হৃদরোগের জটিলতা নিয়ে ভিডিও প্রদর্শন ও কর্মশালার আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালকদের শব্দহীন শান্ত গাড়ি চালনার শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় চিকিৎসকেরা ব্যাখ্যা করেন যে, শব্দের মাত্রা ৮৫ ডেসিবেল অতিক্রম করলে মানুষের কানের স্নায়ুকোষ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং অতিরিক্ত হর্নের শব্দে চালকদের মধ্যেও তীব্র মানসিক অবসাদ ও মেজাজ খিটখিটে হওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। ফলে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও পরোক্ষভাবে বৃদ্ধি পায়।
পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার সায়েন্সল্যাব, শাহবাগ, বিজয় সরণি ও মতিঝিলের মতো নীরব ও ভিআইপি এলাকায় শব্দদূষণ বিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে অনুমোদিত ডেসিবেলের চেয়ে বেশি শব্দ উৎপাদনকারী নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন তাৎক্ষণিকভাবে খুলে নিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে এবং আইন অমান্যকারী চালকদের জরিমানা করা হচ্ছে।
হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন নীরব এলাকা বাস্তবায়ন
পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, দেশের সকল সরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে ‘হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষেধ’ সংক্রান্ত সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় এই এলাকাগুলোকে শতভাগ শব্দমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কঠোর মনিটরিং বজায় থাকবে। পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রশিক্ষণের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলায় বিআরটিএর সহায়তায় গাড়ির ফিটনেস নবায়নের সময় হর্নের তীব্রতা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার নতুন বিধিমালা জারি করা হচ্ছে। নির্ধারিত মাত্রার বেশি শব্দ উৎপাদনকারী হর্নযুক্ত কোনো গাড়িকে ফিটনেস সনদ দেওয়া ক্ষমতায় দেওয়া হবে না।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত অতিরিক্ত হর্নের শব্দে শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং বয়স্কদের উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে। চালকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রাখা গেলে নগরের শব্দদূষণ সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। পরিবেশ সুরক্ষায় চালকদের মানসিক সচেতনতা বৃদ্ধি টেকসই নগর জীবনের জন্য অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশবিদরা। শব্দদূষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে জনসচেতনতামূলক সামাজিক ক্যাম্পেইন আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
হাইলাইটস:
- শব্দদূষণ রোধে সারাদেশে ১ লাখ ৩৯ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দিল পরিবেশ অধিদপ্তর।
- নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত জরিমানা আদায়।
- হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চারপাশে ১০০ মিটার এলাকাকে সম্পূর্ণ হর্নমুক্ত ঘোষণার নির্দেশ।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পরিবেশ অধিদপ্তর