জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্দিরের কাছে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্নার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সেই বিতর্কের জেরে ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের একাংশ বিক্ষোভ করে এবং আবার গরুভোজ কর্মসূচি ঘোষণা করে।
এরই মধ্যে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আরও একটি বিজ্ঞপ্তি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরপর শিক্ষার্থীদের একাংশ জানিয়েছে, শুক্রবার তারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক গরু জবাই করবে। ঘটনার শুরু গত ১২ই অক্টোবর। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চের কাছে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্নার আয়োজন করেন। তবে আয়োজনস্থলের পাশেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির থাকায় কয়েকজন হিন্দু শিক্ষার্থী আপত্তি জানান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কিছু কথা কাটাকাটিও হয় বলে দাবি হিন্দু শিক্ষার্থীদের। তারা এও বলছেন যে, ১৭তম ব্যাচের ওই শিক্ষার্থীরা 'ইচ্ছাকৃতভাবে মন্দিরের সামনে গরুর মাংস রান্না' করেছে। যদিও আয়োজক শিক্ষার্থীরা বলছেন, কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়াটা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না এবং হিন্দু শিক্ষার্থীদের আপত্তির পর তারা মন্দির থেকে কয়েক হাত দূরে গিয়েই রান্না করেছেন। যদিও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব জয় সাহা নিজেও মন্দির থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে রান্না করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সূত্র কাছে স্বীকার করেছেন। ২ অক্টোবর ২০২৬ কৈলাস-মানস সরোবর: শত শত বছর ধরে যেখানে তীর্থযাত্রায় যান চার ধর্মের মানুষ ২৮ অগাস্ট ২০২৬ তরবারির জোরে নয়, আরব বণিকদের মাধ্যমে যেভাবে ভারতে এসেছিল ইসলাম ১৭ জুলাই ২০২৬ End of সংশ্লিষ্ট সূত্র'র আরও খবর:
১২ই অক্টোবর রাত ৮টার দিকে মন্দিরের সামনে কয়েকজনকে খিচুড়ি রান্না করতে দেখে জয় সাহাসহ আরও কয়েকজন গিয়ে ওই শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে জানতে চান, “এটা কিসের খিচুড়ি?” শুরুতে ওই শিক্ষার্থীরা এই প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছিলো বলে দাবি করেন জয় সাহা। তিনি বলেন, “মাংস দেখে মনে হলো এটা মুরগি না; হয় খাসি বা গরু। পরে একজন বললো, গরু। যেহেতু মন্দিরের সামনে, আমাদের একটু হলেও খারাপ লাগছে। আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগছে। আমরা তাদের সরায়ে নিতে বলি।” “তাদের কেউ কেউ বললো, আপনারা মন্দিরের সীমানা নির্ধারণ করে দেন। ওরা উত্তেজিত হওয়ার মতো কথা বলছিল, একপ্রকার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছিলো আমাদেরকে। আমরাও আট-দশজন ছিলাম, উত্তেজিত হলাম। এর মাঝে প্রক্টর স্যার আসেন এবং পরে ওরা প্রায় দশ হাত দূরে যায়,” বলছিলেন মি. সাহা।
হাইলাইটস:
- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্দিরের কাছে গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি রান্নার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
- সেই বিতর্কের জেরে ক্যাম্পাসে পশু জবাই থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
- এরই মধ্যে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আরও একটি বিজ্ঞপ্তি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
তথ্যসূত্র: শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)