Home » চার দিন পর উন্মুক্ত হলো সাজেক ভ্যালি

চার দিন পর উন্মুক্ত হলো সাজেক ভ্যালি

কর্তৃক Towkir Hasan
০ মন্তব্য
চার দিন পর উন্মুক্ত হলো সাজেক ভ্যালি

টানা চার দিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙামাটির সাজেক ভ্যালি। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হওয়ায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ সিদ্ধান্তে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সাজেক উন্মুক্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ভ্রমণপিপাসু শত শত পর্যটক মেঘের দেশে ছুটে এসেছেন।

পাহাড়ি জনপদে প্রাণচাঞ্চল্য ও রিসোর্ট মালিকদের স্বস্তি

সাজেক কটেজ-রিসোর্ট মালিক সমিতি জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রথম দিনেই শতাধিক চাঁদের গাড়িতে করে আট শতাধিক পর্যটক সাজেকে প্রবেশ করেছেন। চার দিন ধরে বন্ধ থাকা হোটেল, কটেজ ও রেস্তোরাঁগুলো পুনরায় কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে। পর্যটকদের বরণ করে নিতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন এবং পর্যটকদের জন্য বিশেষ ছাড় ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে। স্থানীয় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে পাহাড়ি পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে আসা দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যবিধি নির্দেশিকা এবং জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাতে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া যায়।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যৌথ বাহিনীর বিশেষ এসকর্ট

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যটকদের যাতায়াত নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রাখতে বাঘাইহাট সেনা ক্যাম্প থেকে সাজেক পর্যন্ত নিয়মিত নিরাপত্তা এসকর্ট দেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়কে চালকদের নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলতে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের যেকোনো ধরনের জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা ও উদ্ধার তৎপরতা নিশ্চিত করতে মেডিকেল ক্যাম্প ও ভ্রাম্যমাণ অ্যাম্বুলেন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোনো পর্যটক যেন কোনো ধরনের অসুবিধায় না পড়েন, সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ চেকপোস্টগুলোতে পুলিশ হেল্প ডেস্ক সক্রিয় রয়েছে।

স্থানীয় আদিবাসী অর্থনীতি ও জীবিকার পুনরুজ্জীবন

সাজেক ভ্যালির পর্যটনের সাথে পাহাড়ি এলাকার কয়েক হাজার পরিবারের জীবিকা সরাসরি জড়িত। ভ্রমণ বন্ধ থাকায় পরিবহন চালক, ফল বিক্রেতা, হস্তশিল্প ব্যবসায়ী ও গাইডরা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন। সাজেক খুলে দেওয়ায় তাদের মুখে হাসি ফুটেছে। পর্যটকদের পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং স্থানীয় উপজাতীয় সংস্কৃতি ও পরিবেশকে সম্মান জানিয়ে ভ্রমণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সাজেক ভ্যালির স্থানীয় কটেজ ও রেস্তোরাঁ মালিকরা জানিয়েছেন যে, দীর্ঘমেয়াদে পাহাড়ি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা বন্ধে পর্যটকদের মাঝে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে এবং স্থানীয় আদিবাসী সংস্কৃতিকে সম্মান জানাতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সামনের ছুটির দিনগুলোতে সাজেকে পর্যটকদের সমাগম আরও বৃদ্ধি পাবে। পাহাড়ি অঞ্চলের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা পর্যটকদের নিরাপদ ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা দিতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাবে।

তথ্যসূত্র: স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও পর্যটন সেল

হাইলাইটস:

  • নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্রমণের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার。
  • প্রথম দিনেই আট শতাধিক পর্যটক প্রবেশ করায় রিসোর্ট ও পরিবহন খাতে স্বস্তির হাওয়া。
  • বাঘাইহাট সেনা ক্যাম্প থেকে সাজেক পর্যন্ত পাহাড়ি সড়কে যৌথ বাহিনীর নিয়মিত এসকর্ট অব্যাহত।

আপনার আরও পছন্দ হতে পারে

একটি মন্তব্য করুন