কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়ে বহুগুণ বেশি ক্ষতিকর ও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রধানতম নিয়ামক মিথেন গ্যাস নির্গমন তাৎক্ষণিকভাবে কমিয়ে আনতে সদস্য দেশগুলোর সর্বসম্মত সমর্থনে একটি নতুন বাধ্যতামূলক আন্তর্জাতিক পরিবেশ চুক্তি অনুমোদন করেছে জাতিসংঘ। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের পরিবেশ অধিবেশনে এই বৈশ্বিক চুক্তির খসড়া বিপুল সমর্থনে পাস হয়। জলবায়ু বিপর্যয় রুখতে বিজ্ঞানীদের সুপারিশ অনুযায়ী এই চুক্তিকে অত্যন্ত জরুরি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বাক্ষরিত এই আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী, তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনকারী দেশগুলোকে তাদের পাইপলাইন ও রিফাইনারিতে সব ধরনের মিথেন ফ্লেয়ারিং এবং অনাকাঙ্ক্ষিত লিকেজ বন্ধে বাধ্যতামূলক আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন করতে হবে। এছাড়া পৌরসভার উন্মুক্ত ময়লার ভাগাড় ও ল্যান্ডফিল থেকে নির্গত মিথেন গ্যাস সংগ্রহ করে তা বিদ্যুৎ ও জৈব সারে রূপান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মিথেন নিঃসরণ অন্তত ৩০ শতাংশ কমিয়ে আনার বিষয়ে আইনি অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে।
জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউএনইপি) নির্বাহী পরিচালক চুক্তি পাশের পর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, বায়ুমণ্ডলে মিথেন গ্যাসের আয়ুষ্কাল কার্বনের চেয়ে কম হলেও এর উষ্ণায়ন ক্ষমতা কার্বনের তুলনায় প্রায় ৮০ গুণ বেশি। মিথেন নির্গমন সফলভাবে কমানো সম্ভব হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হার শূন্য দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পারে, যা চরম তাপদাহ ও অস্বাভাবিক ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ কমাতে দারুণ ভূমিকা রাখবে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পরিবেশ অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই চুক্তি বাস্তবায়নে উন্নত দেশগুলোর অর্থায়ন ও উন্নত উপগ্রহ প্রযুক্তির উন্মুক্ত বণ্টন অত্যন্ত জরুরি। বিশ্ব মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলোর বিশেষ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সাহায্যে এখন থেকে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বড় ধরনের মিথেন লিকেজ মুহূর্তেই শনাক্ত করে আন্তর্জাতিক ফোরামে প্রকাশ করা হবে, যা জলবায়ু সুরক্ষায় রাষ্ট্রগুলোর স্বচ্ছতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সূত্র ও জাতিসংঘ দপ্তর
হাইলাইটস:
- ২০৩০ সালের মধ্যে মিথেন গ্যাস নির্গমন অন্তত ৩০ শতাংশ কমানোর বৈশ্বিক অঙ্গীকার。
- উপগ্রহ ট্র্যাকিং প্রযুক্তির মাধ্যমে মিথেন লিক শনাক্তকরণ ও সদস্য দেশগুলোর যৌথ জবাবদিহিতা。
- উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জ্বালানি খাতের লিকেজ মেরামতে বিশেষ গ্রিন ক্লাইমেট তহবিল সহায়তা。