অনলাইন ডেস্ক: চাঁদের দুর্গম ও বৈরী দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে পানি ও মূল্যবান খনিজ সম্পদের অবস্থান বিশদভাবে অনুসন্ধানের জন্য একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক সমন্বিত মহাকাশ অভিযানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে শীর্ষ মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলো। ওয়াশিংটনে আয়োজিত বৈশ্বিক মহাকাশ অনুসন্ধান সম্মেলনে এই যৌথ অভিযানের রূপরেখা ও কারিগরি কর্মপরিকল্পনা উন্মোচন করা হয়। এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী বৈজ্ঞানিক গবেষণা ঘাঁটি গড়ে তোলার সম্ভাব্যতা যাচাই করা।
মহাকাশ বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চাঁদের দক্ষিণ মেরুর গভীর খাদগুলোতে সূর্যের আলো কখনো প্রবেশ করে না। ফলে এসব অঞ্চলে কোটি কোটি বছর ধরে বরফ আকারে বিপুল পরিমাণ পানি সংরক্ষিত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পানি হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনে রূপান্তর করে রকেটের জ্বালানি এবং নভোচারীদের জীবনধারণে ব্যবহার করা সম্ভব হলে মহাকাশ অভিযানের ব্যয় নাটকীয়ভাবে কমে আসবে এবং মঙ্গল অভিযানের পথ সুগম হবে।
প্রস্তাবিত মিশনের আওতায় আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রিত ড্রিলিং রোভার এবং স্যাম্পল রিটার্ন ল্যান্ডার পাঠানো হবে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইন ও শান্তি বজায় রেখে চাঁদের প্রাকৃতিক সম্পদ মানবজাতির সার্বিক কল্যাণে ব্যবহারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো।
হাইলাইটস:
- চাঁদের অন্ধকারাচ্ছন্ন খাদে বরফ ও খনিজের উপস্থিতি নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করার পরিকল্পনা।
- ভবিষ্যতে মঙ্গলে দীর্ঘমেয়াদি মানব অভিযানের জন্য চাঁদকে রিফুয়েলিং স্টেশন হিসেবে ব্যবহারের রূপরেখা।
- নাসা ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার যৌথ অর্থায়নে রোবোটিক রোভার উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি।