আসন্ন এশিয়ান গেমস ফুটবলে মর্যাদাপূর্ণ পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে নিবিড় ও কঠোর অনুশীলন শুরু করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় ফুটবল দল। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা মাঠে জাতীয় দলের প্রধান কোচের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই বিশেষ আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিচালিত হচ্ছে। দলের ফিটনেস, ট্যাকটিক্যাল বোঝাপড়া এবং আক্রমণভাগের কার্যকারিতা বাড়াতে প্রতিদিন দুই সেশনে টানা অনুশীলন চলছে। ক্যাম্পে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ঘরোয়া লিগে দারুণ পারফর্ম করা উদীয়মান তরুণ ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা গতকাল অনুশীলনে গিয়ে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে লাল-সবুজের পতাকাকে মর্যাদার সঙ্গে তুলে ধরার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেছেন ফুটবলাররা।
প্রধান কোচ জোনাথন ম্যাককিনি সাংবাদিকদের বলেন যে আন্তর্জাতিক ফুটবলে শারীরিক সামর্থ্য ও মানসিক দৃঢ়তা সবচেয়ে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে পুরো নব্বই মিনিট সমান গতিতে লড়াই চালিয়ে যেতে হাই-ইনটেনসিটি ট্রেনিংয়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। রক্ষণভাগের ছোটখাটো ভুল শুধরে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ সাজানোর নিখুঁত কৌশল রপ্ত করছেন দলের সদস্যরা। গোলকিপিং ইউনিটের রিফ্লেক্স এবং ডিফেন্সের সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে আধুনিক ভিডিও অ্যানালাইসিসের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। কোচ জানান যে দলের বর্তমান প্রস্তুতিতে তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট এবং ফুটবলাররা শতভাগ উজাড় করে দিচ্ছেন। সামনের দিনগুলোতে দলের সমন্বয় আরও নিখুঁত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দলের অধিনায়ক তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন যে পুরো দল একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করছে। প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক না কেন মাঠে নির্ভীক চিত্তে লড়াই করার মানসিকতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলোতে পাওয়া আত্মবিশ্বাস খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। মাঝমাঠে বল দখল রেখে আক্রমণ শানানোর ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের বোঝাপড়া আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। দর্শকরা মাঠে একটি লড়াকু ও প্রাণবন্ত বাংলাদেশ দল দেখতে পাবেন বলে অধিনায়ক দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন। দলের সবার পূর্ণ সুস্থতা বজায় রাখতে ফিজিও ও নিউট্রিশনিস্টদের একটি বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহ-সভাপতি জানান যে দলের প্রস্তুতির সুবিধার্থে যাবতীয় উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এশিয়ান গেমসে যাওয়ার আগে আন্তর্জাতিক মানের অন্তত দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের একটি শীর্ষ দলের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বাফুফে আশা করছে যে এ ধরনের শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেললে দলের দুর্বলতাগুলো সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। তরুণ প্রতিভাদের আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে মানিয়ে নিতে এই সুযোগ বড় ভূমিকা রাখবে। সামগ্রিক ফুটবল উন্নয়নে বয়সভিত্তিক জাতীয় দলগুলোর প্রতি ফেডারেশনের নজরদারি এখন অনেক বেশি জোরালো।
দেশের ক্রীড়াপ্রেমী সাধারণ ফুটবল অনুসারীরা এই তরুণ দলটিকে ঘিরে বড় স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঘরোয়া ও আঞ্চলিক ফুটবলে দর্শকদের যে নতুন জোয়ার তৈরি হয়েছে তা ধরে রাখতে ভালো ফলের বিকল্প নেই। এশিয়ান গেমসে গ্রুপ পর্বের বাধা টপকে নকআউট পর্বে পৌঁছানোই লাল-সবুজ শিবিরের প্রাথমিক ও প্রধান লক্ষ্য। কঠোর অনুশীলন এবং সঠিক কৌশল প্রয়োগ করতে পারলে যে কোনো অঘটন ঘটানো সম্ভব বলে ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। পুরো জাতির প্রত্যাশার চাপকে অনুপ্রেরণায় রূপান্তর করে মাঠে সেরাটা দেওয়ার অপেক্ষায় প্রস্তুত হচ্ছেন তরুণ ফুটবলাররা।
হাইলাইটস:
- এশিয়ান গেমস ফুটবলের প্রস্তুতিতে জাতীয় দলের আবাসিক ক্যাম্পে কঠোর ট্যাকটিক্যাল ও ফিটনেস অনুশীলন।
- বড় দলের বিরুদ্ধে নব্বই মিনিট লড়াইয়ের সক্ষমতা তৈরিতে আধুনিক ভিডিও অ্যানালাইসিস ও হাই-ইনটেনসিটি ট্রেনিং।
- চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার আগে মধ্যপ্রাচ্যের দলের বিপক্ষে দুটি আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।